প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সূচক কমেছে ডিএসইর

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল রোববার মূল্যসূচকের সামান্য পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেনও আগের দিনের তুলনায় সামান্য কমেছে। তবে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে।

গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এদিন ডিএসইতে ৭৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এটি আগের দিনের তুলনায় ৭০ কোটি ৫ লাখ টাকা কম। আগের দিন এ বাজারে ৮০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ৩২২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ১৩৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭টির শেয়ার দর।

গতকাল সকালে সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর পর প্রধান বাজারে সব ধরনের সূচকই বেড়েছিল। কিন্তু কিছু সময় পরই শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। তবে শেষ বিকালে বিক্রির চাপ আরও বেড়ে যায়। যার কারণে প্রধান মূল্যসূচক দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে চার হাজার ৮২২ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক দশমিক ০৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৪৯ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৭৮৩ পয়েন্টে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছুদিন ধরেই পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন কিছুটা বাড়ছিল, যার কারণে মুনাফায় থাকা অনেক বিনিয়োগকারীই বিনিয়োগ কৌশল পরিবর্তন করছেন। এছাড়া ডিসেম্বর ক্লোজিংকে ঘিরে অনেকেই নতুন করে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যস্ত করছেন। ফলে বাজারে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ বাড়ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মুনাফা তোলার প্রবণতার কারণে টানা দর বাড়ছে না কোনো কোম্পানির। এটি বাজারের জন্য ইতিবাচক। এছাড়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির দু’একটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেলেও অন্যগুলোর প্রতি আগ্রহ কমেছে।

ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো: বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম, ন্যাশনাল টিউবস, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ইফাদ অটোস, শাশা ডেনিমস, আরএসআরএম স্টিল, অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ, বেক্সিমকো, কাসেম ড্রাইসেল ও কনফিডেন্ট সিমেন্ট।

আর দর হ্রাসের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে ন্যাশনাল টিউবস, হাক্কানী পাল্প, তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স, ইয়াকিন পলিমার, উসমানিয়া গ্লাস, লিগাছি ফুটওয়্যার, ফরচুন সুজ ও বিজিআইসি।

এদিকে খাতভিত্তিক লেনদেনে গতকাল সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল প্রকৌশল খাতের কোম্পানির। মোট লেনদেনে ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল এ খাতের অবদান। পরের অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। এ খাতের অবদান ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। এগিয়ে ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোও। মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা খাত দুটি হচ্ছে জ্বালানি ও শক্তি এবং ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতের অবদান ছিল প্রায় আট  শতাংশ এবং জ্বালানি ও শক্তি খাতের অবদান ছিল আট দশমিক দুই শতাংশ।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। সিএসইতে ৪৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৬৩ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১৩টির, কমেছে ১০১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির।

সিএসইর লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো: লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম, ফরচুন সুজ, বেক্সিমকো, অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ, বিএসআরএম লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আরএসআরএম স্টিল, ডরিন পাওয়ার ও জিপিএইচ ইস্পাত।

অন্যদিকে এখানে দর হারানোর শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে নর্দান ইন্স্যুরেন্স, এমটিবি, হাক্কানী পাল্প, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, ইয়াকিন পলিমার, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, মুন্নু সিরামিক ও কাসেম ড্রাইসেল।