দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

সেপ্টেম্বরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৫৪.২৪ শতাংশ

কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট

রহমত রহমান: রাজস্ব আদায়ে গত বছরের চেয়ে সেপ্টেম্বরে ১৫৪ দশমিক ২৪ শতাংশ ও জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ৭৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। করোনাকালে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন নাজুক অবস্থায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি অর্জন যখন চ্যালেঞ্জের পথে, তখন ব্যতিক্রমী প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে কুমিল্লা কমিশনারেট। শুধু রাজস্ব আহরণে নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও সাফল্যে পিছিয়ে নেই এ কমিশনারেট। ব্যতিক্রমী অগ্রগতির পেছনের পরিশ্রমী কর্মীদের উৎসাহ প্রদান ও কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর মাসে এ কমিশনারেট রাজস্ব আহরণ করেছে ২১৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যেখানে গত বছর একই মাসে আহরিত হয়েছে ৮৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি ১৫৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রাজস্ব আহরিত হয়েছে ৫৯৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যেখানে গত বছর একই সময় আহরিত হয়েছে ৩৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ৭৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

সূত্র আরও জানায়, এ কমিশনারেটের অধীন একমাত্র সিগারেট কোম্পানি আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড (একেটিসিএল)। এ কোম্পানি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আহরিত হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা, যেখানে গত বছর একই সময়ে আহরিত হয়েছে ১৭০ কোটি টাকা। এ কোম্পানির রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১০৬ শতাংশ। সিগারেট খাতে রাজস্ব বাড়ানোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কোম্পানির সাথে একাধিকবার সভা করা হয়েছে। এছাড়া নকল-ভুয়া বিড়ি ও সিগারেটের বিরুদ্ধে ৪০টি নিবারক ও কুরিয়ার সার্ভিসে রুটিন ২০১টি অভিযান এ বছর সিগারেট খাতে রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। একেটিসিএল ব্যতীত অন্যান্য খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪১ শতাংশ। খাতভিত্তিক হিসেবে এ কমিশনারেটে উৎসে কর্তন থেকে ৩০ শতাংশ, উৎসে ব্যতীত অন্যান্য খাতে ৮৯ শতাংশ, বিড়ি খাতে ১৮৭ শতাংশ, ইটভাটায় ৬৪৩ শতাংশ, বকেয়া আদায়ে ৭৯০ শতাংশ, গ্যাস খাতে ৫৫৯ শতাংশ, স্থান-স্থাপনায় ২১ শতাংশ, বেভারেজ খাতে ছয় শতাংশ এবং অভিযান থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব ৫০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কুমিল্লা।

সূত্র আরও জানায়, সেপ্টেম্বর মাসে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। রিটার্ন দাখিল প্রবৃদ্ধি ৯৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। রাজস্ব ফাঁকি রোধে এ কমিশনারেটের আওতাধীন ছয়টি জেলায় ইটভাটা স্থাপনায় নিবারক অভিযান হয়েছে ৯৭৫টি। মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৬০টি। এছাড়া ৪০টি সার্টিফিকেট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে আদায় হয়েছে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা। মামলা থেকে রাজস্ব আদায় এক কোটি ৪২ লাখ টাকা। ভ্যাটের নিবারক অভিযান থেকে মামলা হয়েছে ৩৭টি, জরিমানা ও রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ভ্যাট ফাঁকির মামলা হয়েছে ৩৯টি, শুল্ক ফাঁকির মামলা ১৬টি। তিন হাজার ৯৪৪টি প্রতিষ্ঠান জরিপ করা হয়েছে। রিটার্ন যাচাই করে ৫১টি প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

কমিশনারেটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৫৪ দশমিক ২৪ শতাংশ অভাবনীয় ও ব্যতিক্রমী প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য খাত অবদান রেখেছে। এর মধ্যে সিগারেট ও বিড়ি খাত অন্যতম। অবৈধ সিগারেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হয়। নকল ও ব্যবহƒত ব্যান্ডরোল প্রতিরোধে ৪০টি অভিযান থেকে ১৬টি সফল অভিযানে প্রায় ১১ লাখ শলাকা সিগারেট ও ১০ লাখের বেশি শলাকা বিড়ি আটক করা হয়। এর মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। কুরিয়ার সাভির্সগুলোয় গত তিন মাসে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। ২০১টির মধ্যে ২৮টি সফল অভিযানে প্রায় ২২ লাখ টাকার মালামাল আটক করা হয়। ইটভাটাগুলোয় সফল ৩৫২টি অভিযান পরিচালনা করে চার কোটি ৭৫ লাখ টাকা বকেয়া রাজস্ব আদায় করা হয়। স্থান ও স্থাপনা খাতে রাজস্ব আদায় হয় এক কোটি চার লাখ টাকা। দাখিলপত্র যাচাই করে প্রায় আট কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন ও ৪২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। করদাতাদের সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। শীর্ষ করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে দেওয়া হচ্ছে গিফট। কর্মকর্তাদের দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। রাজস্ব আদায়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তা পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচন করে প্রতি মাসে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা, নিবারক কার্যক্রম জোরদারভাবে পরিচালনা করা এবং নিয়মিত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, উৎপাদন ও সেবা খাতের তদারকি বৃদ্ধি করায় আগের মাসগুলোর তুলনায় রাজস্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

অপরদিকে ব্যতিক্রমী অগ্রগতির পেছনের পরিশ্রমী কর্মীদের ২৭ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কৃত করেছে কুমিল্লা কমিশনারেট। অনুষ্ঠানে মোট ৫৫ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়। ২৩ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তাদের বিশেষ অবদানের জন্য সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিভিন্ন ক্যাটেগরির ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে রিটার্ন যাচাই, নিবারক কার্যক্রম, বকেয়া আদায়, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, নিরীক্ষা ও তদন্ত, রাজস্বের নতুন ক্ষেত্র বৃদ্ধিকরণ, নিবন্ধন ও মূসক জরিপ এবং সিগারেট ও বিড়ির নকল ব্যান্ডরোল শনাক্তকরণ।

কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, করোনাকালে কুমিল্লা টিম কখনও পশ্চাদমুখী বা কর্মবিচ্যুত থাকেনি। দলবদ্ধ প্রচেষ্টা ও প্রতিযোগিতা এ অভূতপূর্ব সাফল্যের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। সক্ষম কর্মকর্তাদের বাছাই করে জটিলতর কাজে নিয়োগ ও মনিটরিং উদ্বুদ্ধকরণ এক্ষেত্রে গতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। সর্বোপরি কর্মস্থলে দেশাত্মবোধ ও সেবার মনোভাব থাকা জরুরি। সারা দেশের কর্মকর্তাদের এ রকম কাজের ধারা অব্যাহত থাকা উচিত। গভীর রাতে নিবারণ কার্যক্রম, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইটভাটাগুলোয় অভিযান পরিচালনা এবং অফিস সময় ছাড়াও বাড়তি সময় কাজ করায় কর্মকর্তাদের মনোভাব প্রশংসনীয়। দক্ষ, সক্ষম, উপযুক্ত ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে সব কর্মকর্তাকে ভবিষ্যতেও পুরস্কৃত করা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..