প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সেবা দিতে প্রয়োজন ৩৭ স্ক্যানার তিনগুণ জনবল

রহমত রহমান: যাত্রীদের বিশ্বমানের সেবা দিতে তৈরি করা হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। দেশের প্রধান বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনালে বছরে ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে। নতুন টার্মিনাল নির্মিত হলে সেবা পাবেন প্রায় দুই কোটি যাত্রী। নতুন টার্মিনাল যুক্ত হলে কাস্টমসের সেবা ও কর্মপরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে সাধারণ নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য স্ক্যানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দর ব্যবহার করে বহির্গমন, আগমনী যাত্রীদের কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা এবং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় স্ক্যানার কেনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। নতুন টার্মিনালে কাস্টমস সেবা প্রদানের জন্য ৩৭টি স্ক্যানার ক্রয়, সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত জনবলের পদ সৃষ্টি ও পদায়নে আগে থেকেই পদক্ষেপ নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছেন ঢাকা কাস্টম হাউস কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান। চলতি মাসে এই চিঠি দেয়া হয়, যাতে বলা হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের সম্প্রসারণে গৃহীত প্রকল্পের নকশা ও নকশার ভিত্তিতে কাস্টমস-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা’র বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালে প্রয়োজনীয় স্ক্যানার স্থাপন, স্ক্যানার পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ ও পদায়ন এবং কারিগরি সেবার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে অভিহিত করে এই চিঠি দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে সাধারণ নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য স্ক্যানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে বহির্গমন, আগমনী যাত্রীদের কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা এবং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় স্ক্যানার ক্রয়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৩ সালের অক্টোবরে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তৃতীয় টার্মিনাল চালু করার প্রথম থেকে কাস্টমসকে এই টার্মিনালে সেবা প্রদান করতে হলে এনবিআরকে এই টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় স্ক্যানার কিনতে ও স্থাপন করতে হবে।

আরও বলা হয়, এই টার্মিনালের বাস্তবায়নাধীন নকশা অনুযায়ী, এই টার্মিনালের আগমনী হলে চারটি রেড চ্যানেলে তিনটি করে মোট ১২টি চেক-ইন লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করতে হবে। এছাড়া দুটি গ্রিন চ্যানেলে দুটি করে মোট চারটি চেক-ইন স্ক্যানার, ১৬টি ব্যাগেজ বেল্টের সঙ্গে

স্বয়ংক্রিয় সিনক্রোনাইজড বিশেষায়িত ১৬টি স্ক্যানার এবং ভিআইপি আগমনী যাত্রীদের ব্যাগেজ পরীক্ষার জন্য একটি চেকইন লাগেজ স্ক্যানার প্রয়োজন হবে। একইসঙ্গে বহির্গামী যাত্রীদের সন্দেহজনক ব্যাগেজ পরীক্ষার জন্য দুটি চেকইন লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করতে হবে। এছাড়া কেবিন ক্রু ও বিমানবন্দরে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিমানবন্দর থেকে বহির্গমনে বহির্গমন হলের প্রথম ও তৃতীয় তলার জন্য দুটি ব্যাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করার প্রয়োজন হবে। কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের উপাদান থাকায় সিভিল এভিয়েশনের প্রকল্প টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে স্ক্যানার কেনার স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা সঠিক হবে বলে বেবিচক কর্তৃপক্ষ ঢাকা কাস্টম হাউসকে পরামর্শ দিয়েছে।

চিঠিতে জনবল বিষয়ে বলা হয়, নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালে স্থাপিত লাগেজ বেল্ট সংখ্যা, রেড চ্যানেল, গ্রিন চ্যানেল ও কাস্টমসের অন্যান্য ক্ষেত্রে সেবা প্রদানের জন্য বিদ্যমান জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা আবশ্যক। এই টার্মিনালে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও সেবা প্রদানের জন্য সম্ভাব্য ৩৭টি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করতে হবে। এসব মেশিন পরিচালনায় প্রতি শিফটে ৩৭ জন করে মোট ৭৪ কর্মকর্তা পদায়নে এনবিআর’কে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নিতে অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া যাত্রীসেবা প্রদান, শুল্ককর নির্ণয়, ব্যাগেজ ঘোষণা গ্রহণ, ব্যাগেজ পণ্য ইনভেন্ট্রি করা, বৈদেশিক মুদ্রার ঘোষণা গ্রহণ, চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি রোধে কাজ করতে প্রতি শিফটে অন্তত ১০০ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, পাঁচ রাজস্ব কর্মকর্তা এবং দুই সহকারী বা উপকমিশনার পদায়নেরও পরিকল্পনা এনবিআর গ্রহণ করতে পারে। বিমানবন্দরের বর্তমান ও তৃতীয় টার্মিনালের জন্য তিনটি শিফটের জন্য মোট ৩০০ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, ১৫ রাজস্ব কর্মকর্তা, ছয় সহকারী বা উপকমিশনারের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবলের নতুন পদ সৃষ্টি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। টার্মিনালের চালুর সময় থেকেই যাতে নতুন সৃষ্টি করা পদের কর্মকর্তাদের পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়, সেজন্য চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়। সূত্রমতে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে দুটি টার্মিনাল রয়েছে। এ দুটি টার্মিনাল এক লাখ বর্গমিটার জায়গার ওপর। তৃতীয় যে টার্মিনালটি হচ্ছে, সেটির আয়তন বর্তমান দুটি টার্মিনালের দ্বিগুণের বেশিÑদুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার এলাকা। তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অনেকটা সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের আদলেই তৈরি করা হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে বর্তমানে বছরে ৮০ লাখ যাত্রীর সেবা দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে। তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শেষ হলে দুই কোটি যাত্রীকে সেবা দেয়া যাবে। অর্থাৎ বাড়তি এক কোটি ২০ লাখ যাত্রী নতুন করে সেবার আওতায় আসবেন। নতুন এই টার্মিনালে থাকছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার। এই টার্মিনালে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ। ৬৪টি বহির্গমন ও ৬৪টি আগমনী ইমিগ্রেশন কাউন্টার তৈরি করা হচ্ছে। লাগেজ বা ব্যাগ টানার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ১৬টি কনভেয়ার বেল্ট। তৃতীয় টার্মিনালে মোট ৩৭টি অ্যাপ্রোন পার্কিং থাকবে। এখন ২৯টি অ্যাপ্রোন পার্কের সুবিধা আছে। শাহজালালে বর্তমানে চারটি ট্যাক্সিওয়ে আছে। নতুন করে আরও দুটি ট্যাক্সিওয়ে যোগ হচ্ছে।