Print Date & Time : 22 January 2022 Saturday 5:57 pm

সেবা দিয়েই গ্রাহক-আস্থা অর্জন করুক টেলিটক

যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক। রাষ্ট্রীয় সব সুবিধা পেয়েও প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক সেবায় পিছিয়ে। রাষ্ট্রের সব নীতিসহায়তা, আনুকূল্য পেয়েও বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। সেবা, নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট কোনো বিবেচনায়ই টেলিটক এগিয়ে ছিল না। টেলিটক নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো বেশিরভাগই নেতিবাচক।

গতকাল শেয়ার বিজে ‘নেটওয়ার্ক দুর্বলতা: গ্রাহক পেলেও সেবা দিতে ব্যর্থ টেলিটক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবার আগে পরীক্ষামূলক ফাইভজি সেবা চালু করতে যাচ্ছে টেলিটক। তবে ফোরজি চালু থাকলেও প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। রাজধানীসহ কয়েকটি জেলায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও এখনও অনেক জেলা-উপজেলায় শুরু হয়নি টেলিটক নেটওয়ার্ক। অন্যদিকে টেলিটকে রিচার্জ করতে এই ডিজিটাল যুগেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

আমাদের মনে আছে, ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর টেলিটকের যাত্রাকালে এটির প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ধারণা ছিল গ্রাহকদের উন্নতমানের পণ্য ও টেলিকমসেবা দেয়ার পাশাপাশি এ খাতের কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা রোধেও ভূমিকা রাখবে টেলিটক। সিম বিক্রির প্রথম দিন মানুষের ভিড় ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও তৎপর হতে হয়। টেলিটকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটির প্রযুক্তি ও প্রকৌশলগত জনবলের ১০০ শতাংশই এদেশীয়। ফলে এটি ‘আমাদের ফোন’ই হওয়ার কথা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, গ্রাহকের আস্থার মর্যাদা দিতে পারেনি টেলিটক। টেলিটকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সংযোগ ব্যবহারে সন্তুষ্ট কি না, তা নিয়েও সংশয় আছে।

এর আগে ফোরজি চালুর সময়ও বলা হয়েছে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে টেলিটকের। প্রত্যাশিত সেবা মেলেনি। কখনও নেটওয়ার্কে সমস্যা, কখনও কলড্রপ, কখনও-বা কম গতির ইন্টারনেটে গ্রাহকরা বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। সর্বনিম্ন কলরেট ও ইন্টারনেট দিয়েও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং সরকারি সব নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্ন ফি পরিশোধ করতে হয় টেলিটক সংযোগ দিয়ে। ফলে টেলিটক ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেককে।

ফোরজি সেবা চালুর উদ্যোগ নিলেও এটি শুরু করতে কয়েক দফা তারিখ পেছানো হয়। এবার ফাইভজি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে কি না, আমাদের জানা নেই। পেশাদারি দিয়েই এগিয়েছে অন্য অপারেটরগুলো। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করতে না পারা এবং সর্বনি¤œ মানের গ্রাহক সন্তুষ্টির কারণে টেলিটক ব্যর্থ হয়েছে। সর্বোচ্চ সরকারি সুবিধা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে পরিচালিত টেলিটকে ‘ঢিলেমি’ সবসময়ই ছিল। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনেই এটি ব্যর্থ হয়েছে। টেলিটকের পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয়, ‘আমাদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা আগের চেয়ে ভালো। নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে পুরোদমে কাজ চলছে।’ কিন্তু কাজ শেষই হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক তুলতে এবং গ্রাহক-আস্থা অর্জনে ফাইভজি বড় ভূমিকা রাখবে। সবার আগে চালু করায় কোনো কৃতিত্ব নেই। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনে ভূমিকা রাখছে কি না, সেটিই বিবেচ্য। টেলিটকের স্লোগান, ‘দেশের টাকা দেশে রাখুন, টেলিটক ব্যবহার করুন’। স্লোগান নয়, সেবা দিয়েই গ্রাহক-আস্থা অর্জন করুক টেলিটক।