প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সেমিনারে শিক্ষাবিদরা: নিম্নমানের শিক্ষায় বেকার বেড়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও দেশে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বেকার থাকছে। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠী কোনো কাজ জোগাড় করতে পারছে না; কারণ তারা প্রাপ্ত শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারছে না। দোষটা শিক্ষাব্যবস্থার। কারণ সর্বজনীন নিম্নমানের শিক্ষায় দেশ ভরে গেছে। এসব নিম্নমানের শিক্ষার কারণে বেকারের হার দিন দিন বাড়ছে। গতকাল বুধবার এক সেমিনারে শিক্ষাবিদরা এসব কথা বলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও আগামীর ভাবনা নিয়ে ‘এজেন্ডা ২০৩০: শিক্ষার নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

আকর্ষণীয় নাম দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলেও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ডিগ্রি কলেজ থেকেও দুর্বল এমন মন্তব্য করে শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা প্রতিটি গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় করে ফেলতে চাচ্ছেন, করেও ফেলেছেন। আপনি যদি পটুয়াখালী যান, সেখানেও সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, বাট অনলি নামটাই আকর্ষণীয়। বাস্তবতাটা হলো ,ডিগ্রি কলেজ থেকেও দুর্বল একটা অবস্থা সেটির।’

হোসেন জিল্লুর বলেন, ‘বিশাল একটার পর একটা ডিপার্টমেন্ট খুলছে ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে গ্লোবাল র‌্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান কোথায়? কজন ছাত্র আছে সেই সূচক জানার, মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করার?’

গণসাক্ষরতা অভিযান এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ প্রমুখ।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘৬৫ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল কোনো ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়াই চলছে। আমরা আশা করি শিক্ষা আইনে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হওয়ার বিধান রাখা হবে।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দক্ষ শিক্ষকের ক্ষেত্রটি খুবই দুর্বল। ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করছে। আবার স্কুলের অবকাঠামোও খুবই দুর্বল। স্কুলের খাতায় যাদের নাম আছে, তারা সবাই স্কুলে গেলে বসার জায়গা পায় না। অনেক স্কুলে দুই শিফটে ক্লাস হয়। অনেক স্কুলের খেলার মাঠ ও সীমানা প্রাচীর নেই।’

এদিকে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য বিত্তবানদের সম্পদের ওপর শিক্ষাকর আরোপে গুরুত্বারোপ করে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘শিক্ষাজীবন শেষ করার পর ৪০ শতাংশ বেকার থাকছে। এই ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী কী শিক্ষা পেলো যে, তারা কোনো কাজ পেলো না! বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। দেশে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ খুবই কম। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) মাত্র দুই শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বিত্তবানদের শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য কর দিতে হবে। বিত্তবানদের ওপর শিক্ষাকর আরোপের সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের ক্রেডিট কার্ডের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে শিক্ষাকর আরোপ করা যেতে পারে। আবার যারা বিমানে যাতায়াত করেন, তাদের বিমানের টিকিটের ওর শিক্ষাকর আরোপের সুযোগ আছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলকে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।’