সম্পাদকীয়

সেলফোন অপারেটরের প্রতারণা বন্ধে ব্যবস্থা নিন

মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা মানে পিছিয়ে থাকা। ইন্টারনেট সুবিধাসংবলিত ফোন থাকা মানে সারা বিশ্ব হাতের মুঠোয়। এর গুরুত্ব ও বিস্তৃতি এত বেশি যে, এটি ছাড়া এক মুহূর্তও যেন চলতে পারি না আমরা। শহর-মফস্বলের মুদি দোকানেও এমবি কার্ড বিক্রি হচ্ছে এখন। এমন মানুষ কমই আছেন যিনি কখনও দেশে বা প্রবাসে অবস্থানকারী স্বজনের সঙ্গে ইমো, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ বা স্কাইপিতে কথা বলেননি; ভিডিও কল করেননি। অনলাইন ব্যবসা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণেও মোবাইল ফোন ব্যবহার বাড়ছে।

সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (অপারেটর) মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতা চলছে। নিত্য আকর্ষণীয় অফার দিয়ে গ্রাহক বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কম দামে মোবাইল ফোন, বিভিন্ন উপহারের পাশাপাশি বান্ডেল অফার তো আছেই। আবার যে গ্রাহক বেশি ব্যবহার করেন, তাদের বিশেষ গ্রাহকের মর্যাদা দেওয়া হয়। কেউ ডায়মন্ড, কেউ আইকন প্রভৃতি।

অপারেটরগুলোর সেবা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ পুরোনো, বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হন তারা। সাধারণ গ্রাহক সে অর্থে প্রতিকারের প্রতিবাদ করে না, প্রতিবাদ করার যোগ্যতা ও সাহস অনেকের নেই। বিশেষ গ্রাহকরা প্রভাবে-প্রতিপত্তিতে সমাজের বিশিষ্টজন। এ বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অপারেটরগুলোর দ্বারা প্রবঞ্চিত হন। সে দৃষ্টান্ত রেখেছে গ্রাহকসংখ্যায় দেশের তৃতীয় বৃহৎ অপারেটর বাংলালিংক। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বাংলালিংকের আইকন সেবা: বাড়তি সুবিধার নামে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সেটিই উঠে এসেছে।

আইকন গ্রাহকদের জন্য বাংলালিংকের সেøাগান ছিল স্পেশাল (নিজেকে বিশেষ ভাবুন)। কিন্তু সেই কথিত বিশেষ গ্রাহকরাই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে খবরে প্রকাশ। আইকন গ্রাহকদের অফার দিতে সুপারশপ স্বপ্ন, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও হোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলালিংক। এতে গ্রাহককে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট অফার দেওয়া হয়। অথচ অফার গ্রহণ করতে পারেননি অনেক গ্রাহক। এতে গ্রাহকের দূরত্ব সৃষ্টি হয়, বিতর্কও হয়।

খবরেই বলা হয়েছে, আইকন গ্রাহকদের জন্য আগে ম্যানেজার নিয়োগ থাকলেও এখন নেই। ম্যানেজারের পরিবর্তে কাস্টমার কেয়ার দিলেও সেবার মান আগের চেয়ে নি¤œ। ফলে কোনো অভিযোগ করলেও তার প্রতিকার পান না বাংলালিংক আইকন গ্রাহকরা।

রাজস্ব ফাঁকি প্রশ্নে অপারেটর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে টানাপড়েন এখন আলোচিত বিষয়। কিন্তু গ্রাহক হয়রানির প্রতিকারেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্জিত অর্থই রাজস্ব হিসেবে জমা দেওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কোনোরূপ শৈথিল্যে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে অপারেটরগুলো। গ্রাহক হয়রানি রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..