সম্পাদকীয়

সেলফোন গ্রাহক হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নিন

মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তন সেবা (এমএনপি) চালুর এক বছরে অপারেটর বদল করেছেন ছয় লাখ ৯০ হাজার ৫৫০ গ্রাহক। তবে অপারেটর পরিবর্তনের এ সেবায় সবচেয়ে বেশি গ্রাহক যাচ্ছেন রবি আজিয়াটায়। গত বছরের অক্টোবরে এমএনপি সুবিধা চালু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে অপারেটর বদলকারীর প্রায় ৮৪ শতাংশ গ্রাহকই গেছেন রবিতে।

অপারেটর বদলের হিসাবে এগিয়ে থাকায় রবির প্রতি ব্যবহারকারীদের আস্থা বেড়েছে বলেই প্রতীয়মান। অপারেটরটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এটিকে নিজেদের সাফল্য ভেবে পরিতোষ লাভ করবেনÑতা স্বাভাবিক। কিন্তু ১৫ দিনের মধ্যে অপারেটরটির সর্বোচ্চ কল ড্রপের যে খবর প্রকাশ হয়েছে, তা রবি কর্তৃপক্ষকে বিব্রত করবে বলেই ধারণা।

গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসের তথ্য বিশ্লেষণপূর্বক বিটিআরসি বলেছে, এক বছরে সবচেয়ে বেশি কল ড্রপ হচ্ছে গ্রামীণফোনের। তবে গ্রাহক অনুপাতে কল ড্রপে শীর্ষে রয়েছে রবি আজিয়াটা। সংস্থাটির তথ্যমতে, এক বছরে রবি আজিয়াটার কল ড্রপ হয়েছে ৭৪ কোটি ৬৭ লাখ ৮৪ হাজার। আর গত জুলাই শেষে রবির গ্রাহকসংখ্যা ছিল চার কোটি ৭৭ লাখ ৩৯ হাজার। অর্থাৎ, গ্রাহকপ্রতি রবি আজিয়াটার কল ড্রপ হয়েছে ১৫ দশমিক ৬৪ বার। কল ড্রপের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অপারেটররা কিছু কল ফেরত দিয়ে থাকে। কিন্তু এ হারও উল্লেখযোগ্য নয়। এক বছরে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কল ড্রপ হয়েছে প্রায় ১৮১ কোটি ২৫ লাখ। এর মধ্যে একের অধিক কল ড্রপ হয়েছে প্রায় ৪১ কোটি ৪৯ লাখ। যদিও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫ কোটি ৩৭ লাখ মিনিট।

এদিকে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগের কোনো প্রতিকারও দিতে পারছে না জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর (ডিএনসিআরপি)। সেখানেও রবির সংশ্লিষ্টতা। একাধিকবার অর্থদণ্ডের শিকার রবির রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রবিসহ টেলিকম কোম্পানি সম্পর্কিত ভোক্তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন স্থগিত করেছেন। ফলে মোবাইল ফোন অপারেটর কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা হয়রানির শিকার গ্রাহক ডিএনসিআরপি’র শরণাপন্ন হয়েও প্রতিকার

পাচ্ছেন না। ফলে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো গ্রাহককে যথাযথ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না বলে অভিযোগ। গ্রাহকের সেবার মান বাড়াতে ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ (কিউওএস) নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অপারেটরগুলো যাতে এ নীতিমালা পরিপালনে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়, তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বিটিআরসিকে।

সর্বশেষ..