সারা বাংলা

সৈয়দপুরে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রেখেই সড়ক সংস্কার

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, সৈয়দপুর: একাধিক চিঠি চালাচালি, চেষ্টা-তদবির করেও নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অর্ধমৃত সিরিষ গাছটির বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ওই গাছটি রেখেই বাধ্য হয়ে অসম্পূর্ণ থাকা সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বুধবার থেকে ওই এলাকায় সড়কের অসমাপ্ত কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করলেও ওই সড়কের ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষজনসহ গাছটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা অর্ধমৃত গাছটি যে কোনো সময় উপড়ে পড়তে পারে।

সূত্র জানায়, বিগত ২০১৬ সালের শেষদিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মিউনিসিপ্যাল গভর্নেন্স সার্ভিস প্রজেক্টের (এমজিএসপি) আওতায় পাঁচমাথা মোড় থেকে বিমানবন্দর ও ডাকবাংলো মোড় থেকে পার্বতীপুর রোড মোড় এমপি চেকপোস্ট পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওই সময় থেকে দ্রুতগতিতে কাজ চলতে থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ওই গাছটির কারণে ওই এলাকার রাস্তাসহ ড্রেন নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সড়ক নির্মাণ বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর পৌরসভার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ অর্ধমৃত গাছটি অপসারণ করার জন্য রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় গাছটি অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দীর্ঘ ছয় মাসেও রেলের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এদিকে সম্প্রতি এমজিএসপির প্রকল্প পরিচালক শেখ মোজাক্কা জাহের সৈয়দপুরে বিমানবন্দর সড়কের নির্মিত সড়ক পরিদর্শনে এলে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি দেখেন। তখন গাছটির পাশ দিয়ে ড্রেন ও অসম্পূর্ণ থাকা সড়ক নির্মাণ করার নির্দেশনা দেন। ফলে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে কাজটি শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এ গাছটি অপসারণে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

সড়ক নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাদের এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহনেওয়াজ হোসেন শানু জানান, ওই সড়কের অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারপরেও অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ৬ মাসেও ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণে রেলওয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমজিএসপির প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশে ড্রেন নির্মাণ শুরু করেছেন।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ অর্ধমৃত সিরিষ গাছটি অপসারণ না হওয়ায় ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করা মানুষজনসহ ব্যবসায়ীরা রয়েছেন চরম আতঙ্কে। যে কোনো দুর্যোগে গাছটি উপড়ে পড়ে জানমালের ক্ষতি হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..