প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সৈয়দপুরে ফুডগ্রেইন লাইসেন্সে সাড়া কম ব্যবসায়ীদের

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর : চালসহ খাদ্যশস্যের অবৈধ মজুত নিয়ন্ত্রণে সরকার ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ফুডগ্রেইন লাইসেন্স করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু নীলফামারীর সৈয়দপুরের ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স গ্রহণে তেমন সাড়া নেই। লাইসেন্স গ্রহণের মাত্র দুদিন বাকি থাকলেও অধিকাংশ ব্যবসায়ী এখনও আবেদনপত্র সংগ্রহ করেননি। লাইসেন্স করা নিয়ে দ্বিধাদ্বদ্ব ভুগছেন তারা। আবার অনেক ব্যবসায়ী হয়রানির ভয়ে খাদ্য দফতরে যোগাযোগ করছেন না। খাদ্য দফতর বলছে, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহণ না করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্রমতে, সৈয়দপুরে ৩৪টি চালকলসহ তিন শতাধিক চাল ব্যবসায়ী রয়েছেন। এসব মিলার ও চাল ব্যবসায়ী চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। সরকার বিধিবদ্ধ নিয়মে চলের দর নিয়ন্ত্রণ করতে মিলার ও ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসছে। তবে এক টনের নিচে মজুতদার বা খুচরা ব্যবসায়ীরা এর আওতায় নেই। খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশনায় মিলার, পাইকার, আড়তদার ও আমদানিকারকদের লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আমদানিকারকদের ১০ হাজার, পাইকার-আড়তদারদের পাঁচ হাজার, খুচরা ব্যবসায়ী এক হাজার, অটো রাইস মিল পাঁচ হাজার, হাসকিং মিল এক হাজার ও ওএমএস ডিলারদের ৬০০ টাকা জমা দিতে হবে। লাইসেন্সের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করতে হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে গেট বাজার চাল মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী আবদুল কাদের ও মঞ্জুর হোসেন জানান, মার্কেটের সব ব্যবসায়ী লাইসেন্স গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। এর মধ্যে খাদ্য দফতরের লোকজন তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের সরাসরি মার্কেটে এসে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কারণ দোকান ছেড়ে যাওয়া অনেক ব্যবসায়ীর জন্য সমস্যা। তাছাড়া খাদ্য দফতরের হয়রানির ভয় করছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ, লাইসেন্স গ্রহণ করতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হতে পারে। তারা এসব আশঙ্কা দূর করতে স্থানীয় খাদ্য দফতরকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

সৈয়দপুর চাল মার্কেটের আনোয়ারুল হাসান অ্যান্ড সন্সের ব্যবসায়ী তানভির আনোয়ার জানান, বর্তমানে চালের বহুজাত বের হওয়ায় সব জাতের চাল মজুত রাখতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন অটো রাইস মিলের উৎপাদিত চালও রাখতে হয় ক্রেতাদের চাহিদার অনুযায়ী। সব ধরনের চাল রাখতে হলে সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন মজুতসীমা যথেষ্ট নয়। ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দ বিবেচনা করে খুচরা পর্যায়ে চাল বিক্রি করতে হয়; কিন্তু মজুতসীমা খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করবে। তিনি সর্বনিম্ন মজুতসীমা বাস্তবতার নিরিখে পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান। এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে খুচরা ব্যবসায়ীদের করণীয় কিছু নেই। বড় অটো রাইস মিল বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাদের জবাবদিহির মধ্যে আনা গেলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে না। কারণ তাদের কাছ থেকেই আমরা চাল সংগ্রহ করি। তাই সরবরাহের উৎস বড় মিলারদের ওপর সরকারের নজরদারি বেশি প্রয়োজন।

সৈয়দপুর চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজু জানান, লাইসেন্স গ্রহণে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আছে। এ নিয়ে খাদ্য দফতরের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে সংগঠনের। তবে লাইসেন্স করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে খাদ্য দফতরকে বলা হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য দফতরের কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ জানান, চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে লাইসেন্স করার জন্য ব্যবসায়ীদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করায় সবাইকে তা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ী অবৈধ খাদ্য মজুতের দায়ে অভিযুক্ত হবেন।