প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সৈয়দপুরে লোকসানে বাউকুল ব্যবসায়ীরা

 

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর: নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাইকারি বাজারে শীতের ফল বাউকুলের (বরই) সরবরাহ বেশি ও সে অনুপাতে ক্রেতা না থাকায় দাম কমে গেছে। এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। গতকাল সৈয়দপুরের ফল মার্কেটের পাইকারি বাজার ঘুরে এবং বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

সৈয়দপুরের বাজারে কার্টনে ভরা বাউকুল অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব কুলের কার্টন পুনরায় বন্ধ করে পরের দিন বিক্রির আশায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে এ বাজারে বেচাকেনা বেশ ভালোভাবে হলেও এবার মন্দা যাচ্ছে। তারা জানান,  সৈয়দপুরের বাজারে উপজেলাবাসী ছাড়াও নীলফামারী সদর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, খানসামা, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, কাহারোল, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলাসহ ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের সৈয়দপুরে মানুষ ফলমূল কিনে থাকেন। এ কারণেই এখানে গড়ে উঠেছে পাইকারি ফলের বাজার। শহরের প্রাণকেন্দ্র হাতিখানা রোডে এ বাজার গড়ে ওঠার ফলে সারা বছরই ক্রেতা সমাগম ঘটে এখানে। কিন্তু এবার অন্যান্য ফলের চাহিদা থাকলেও বাউকুলের বেচাকেনা মন্দা যাচ্ছে।

আবদুল্লাহ ফল ভাণ্ডারের মালিক গিয়াস উদ্দিন শেয়ার বিজকে জানান, এবার বাউকুলের উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। গত বছর বাউকুলের বাজার ভালো থাকায় তখন থেকেই চাষিরা বাউকুলের আবাদে ঝুঁকে পড়েন। এক বছরের মাথায় এ বরই গাছে ফল আসায় এবার বেশি উৎপাদন হয়েছে। চাষি ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় উৎপাদন হওয়া এসব বরই নিয়ে আসছে সৈয়দপুরে। এ অবস্থায় আমদানি বাড়লেও ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে। তেমন চাহিদা না থাকায় পানির দামে বিক্রি হচ্ছে বাউকুল।

ব্যবসায়ী আবদুল জানান, গত বছর বড়, মাঝারি ও ছোট সাইজের বাউকুল বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা মণ দরে। সে ফল এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৯ শত টাকা মণ দরে। তারপরেও ক্রেতা নেই। আর এসব কারণে চাষিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

বাজারে দাম বাড়বে আশায় থাকলেও দিনের পর দিন বাউকুলের দরপতন হচ্ছে। সৈয়দপুরের বাজারে বাউকুল নিয়ে আসেন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান গ্রামের কুল চাষি আরাফাত। তিনি জানান, তার বাগানে এবার প্রচুর বাউকুল উৎপাদন হয়েছে। সেসব কুল সৈয়দপুরে আনলেও ক্রেতা না থাকায় পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। গড়ে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে তিনি ২০ মণ বাউকুলে দাম পেয়েছেন মাত্র ১৩ হাজার টাকা। তার উপরে আড়ৎ কমিশন, যাতায়াত ভাড়া ও খাওয়ার খরচতো রয়েছেই। ফলে গতবার ভালো দাম পেলেও এবার ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। একই কথা জানান, একই এলাকার শাহাজুল। তিনি জানান, তার বাগানের গাছগুলোতে এখনও ৮০ থেকে ৯০ মণ বাউকুল রয়েছে। বাজারে দাম না পাওয়ায় ওইসব বাউকুল নিয়ে চিন্তিত তিনি। ভলু ফল ভাণ্ডারের মালিক কমিশন এজেন্ট ভলু জানান, চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভালো দাম না পাওয়ায় তিনি কমিশনও কম পাচ্ছেন। খুচরা ব্যবসায়ী জামিল জানান, বাজারে ক্রেতা তেমন নেই, তাই বিক্রি ভালো যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে সৈয়দপুরে বাউকুলের পর্যাপ্ত আমদানি হলেও ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে।