দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

সোনামসজিদ শুল্কস্টেশনে বেড়েছে আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব

রহমত রহমান: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর ও বৃহৎ শুল্কস্টেশন। হয়রানি ছাড়াই কম সময়ে পণ্য খালাস ও ব্যবসার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবসায়ীদের আস্থা তৈরি হচ্ছে। ফলে করোনার মধ্যেও এখানে আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে। শুধু এক দিনে পণ্য আমদানিতে বিগত ১২ বছরের মধ্যে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এ বন্দর। পণ্য আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে রাজস্ব আহরণ। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে এ বন্দর দিয়ে আমদানি বেড়েছে ৮৩ শতাংশ, আর রপ্তানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ। এতে করে সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ১৮৪ শতাংশ। শুধু মার্চে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ২৪৮ শতাংশ।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে পরবর্তী মাসগুলোতে রাজস্ব আহরণ জ্যামিতিক হারে বাড়বে বলে আশা করছেন এ শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক হয়নি। তবুও কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকি ও সেবার মান উন্নয়নের ফলে রাজস্ব আহরণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর স্টেকহোল্ডাররা বলছেন, ব্যবসার পরিবেশ তৈরি ও কাস্টমসের কাজের মান উন্নত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ব্যবসায় গতিশীলতা আর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

সোনামসজিদ স্থল শুল্কস্টেশন সূত্রমতে, এ বন্দর দিয়ে প্রধান প্রধান আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাথর, চাল, পেঁয়াজ, শীতকালীন ফল, গম, ভুট্টা, মৎস্য ও পশু খাদ্য প্রভৃতি। তবে আমদানি পণ্যের ৬০ শতাংশই পাথর। এছাড়া নেট মশারি, পাটের ব্যাগ, পাটের দড়ি, রাইস ব্রান অয়েল ও কিছু গার্মেন্ট পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়। চলতি অর্থবছর এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিগত অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় আমদানি বেড়েছে প্রায় ৮৩ শতাংশ। আর রপ্তানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ।

গত অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৬ মেট্রিক টন বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়েছিল। আর চলতি অর্থবছর করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর একই সময়ে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৭০ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে গত অর্থবছর এ বন্দর দিয়ে ৯ মাসে ১৩ হাজার ৯৪২ মেট্রিক টন বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১৭ হাজার ৬৬৫ মেট্রিক টন। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৭ শতাংশ।

সূত্রমতে, চলতি অর্থবছর জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ১৯৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে। শুধু মার্চেই রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছর একই মাসে আদায় হয়েছিল ৩৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থল শুল্কস্টেশনের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশক্রমে ইতোমধ্যে আমরা একটি বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। তা হলো, এ স্টেশনের অধিকাংশ আমদানিকারক বা স্টেকহোল্ডাররা আঞ্চলিক হওয়ায় নিয়মিত তাদের আমরা সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সম্পর্কে গাইডলাইন দিয়ে যাচ্ছি। রাজস্ব ফাঁকি রোধকল্পে দ্বিগুণ জরিমানা আরোপ করা হচ্ছে। সঠিক গাইডলাইন ও ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা কমিয়ে এনে রাজস্ববান্ধব ব্যবসা সফল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া এ স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলমান করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সেবার মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে আমদানি-রপ্তানি দুটোই বেড়েছে; বেড়েছে রাজস্ব আহরণ।’

স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় রেকর্ড পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে শুল্কায়ন ও খালাসের সময় কমে যাওয়ায় এক দিনে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। ২০ মার্চ এক দিনে ৪৪৩ ট্রাক পণ্য এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে; যা বিগত ১২ বছরের মধ্যে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ৪৪৩ ট্রাকে পণ্যের মধ্যে ছিল-পাথর, কমলালেবু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন, গম, কেনু ফল, আঙ্গুর, ভুট্টা, আদা প্রভৃতি। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩০০ ট্রাক পণ্য এ বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। সর্বশেষ মঙ্গলবার ৪১১ ট্রাক পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে-আঙ্গুর, আনার, পাথর, চাল, প্লাস্টিক গুডস, গম, রাইস ব্রান, আদা, পেঁয়াজ, মেইজ, ফাইবার, টেক্সটাইল পণ্য প্রভৃতি।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবদুল আওয়াল বলেন, ‘কাস্টমস ও বন্দর ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করে দেয়ায় বর্তমানে ৯০ শতাংশ চালান দিনেরটা দিনে খালাস হচ্ছে। আমরাও তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি। কাস্টমসের কাজের মান আরও উন্নত করতে কাস্টমস প্রতি মাসে আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সভা করেন, যাতে ছোট খাট সমস্যা দ্রুত সমাধান হচ্ছে। আমরা চাই করোনার মধ্যে আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে, যাতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পায়।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..