সারা বাংলা

সোনালি মুরগি পালনে অসচ্ছল পরিবারের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন

আত্মকর্মসংস্থানমূলক সহায়তা প্রকল্প

বেলায়েত সুমন, চাঁদপুর: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলায় সোনালি মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে শতাধিক অসচ্ছল পরিবার। চাঁদপুর জেলা পরিষদের এডিপি খাতের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় আত্মকর্মসংস্থানমূলক সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে সোনালি মুরগি পেয়ে বেশ খুশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই অসচ্ছল পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) এলাকার সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম তার নির্বাচনী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়ে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে বিকল্প আয়বর্ধক হিসেবে এককালীন ১০৫ পরিবারের মাঝে পরিবারপ্রতি ৩০টি করে সোনালি মুরগি দিয়ে সহযোগিতা করেন। সঙ্গে ১০৫ বস্তা  ফিড, ১০৫টি মুরগির খাঁচা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে উপকারভোগী ৫৫টি  অসচ্ছল পরিবার হাজীগঞ্জের। বাকিরা শাহরাস্তির বাসিন্দা।

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, হাজীগঞ্জ শাহরাস্তির সংসদ সদস্যের নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় দুই উপজেলার অসচ্ছল মানুষদের খুঁজে বের করে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির ভিত্তিতে এসব পরিবারের সদস্যদের মুরগি দিয়েছে। পরিবারপ্রতি ৩০টি সোনালি মুরগি দিয়েছি, যার ক্রয়মূল্য প্রতিটি ৪৮০ টাকা করে। প্রতিটি অসচ্ছল পরিবারকে একটি করে খাঁচা দিয়েছি মুরগি পালন করার জন্য, যা তৈরি করতে খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। প্রতি পরিবারকে মুরগির ফিড দিয়েছি এক বস্তা। মোট তিন হাজার ১৫০টি মুরগি দিয়েছি। মুরগি যাতে সুস্থ থাকে সেজন্য দুই হাজার ২৫০ টাকার ভ্যাকসিন দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এভাবে অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ নিয়েছেন সংসদ সদস্য। প্রতিটি অসচ্ছল অসহায় পরিবার ভালো থাকুক সে চিন্তা করেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে উপকারভোগীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে তাদের মুরগি দেয়া হয়েছে।

শাহরাস্তির সূচিপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের মৃত হরি নারায়ণের স্ত্রী পুষ্পরানী চক্রবর্তী (৫৬) মুরগি পেয়ে মহাখুশি। তার দিনমজুর ছেলেকে ৩০টি সোনালি মুরগি, খাঁচা, ফিড ও ভ্যাকসিন দেয়া হয়। পুষ্পরানী বলেন, প্রতিদিন যদি ২৫টি করে ডিম পাই তাহলে ২৫০ টাকা আয় হবে আমার, মাসে প্রায় সাত হাজার ৫০০ টাকা। এর চেয়ে আনন্দ আর কী হতে পারে? সোনালি মুরগির আয় থেকেই আমার পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে, সে স্বপ্ন  দেখছি।

একই উপজেলার পৌর এলাকার নিজমেহারের আবদুল হাকিমের স্ত্রী অসহায় শাহিদা বেগম জানান, মুরগি পেয়ে আমি নতুন জীবন পেয়েছি। অন্তত বেঁচে থাকার একটা অবলম্বন পেলাম। আমার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ।

ঘুঘুশাল গ্রামের খোদেজা বেগম, উপলতা গ্রামের খুরশিদা বেগম, বানিয়াচো গ্রামের আইরিন সুলতানা, কদমতলী গ্রামের রেহেনা বেগম, দেবকরা গ্রামের রৌশন আরা, নাহারা গ্রামের ফারজানা আক্তার, মালরা গ্রামের হোসনে আরাও মুরগি পেয়েছেন। এছাড়া বেরনাইয়া গ্রামের শামসুন নাহার, খেড়িহর গ্রামের পরান বেগম, বেরকী গ্রামের মাজেদা বেগম, দৈকামতা গ্রামের পারভিন আক্তার, বলশীদ গ্রামের মাজুদা বেগমসহ অন্যান্য অসচ্ছল অসহায় নারীরা মুরগি পেয়ে স্বপ্ন দেখছেন ঘুরে দাঁড়ানোর।

হাজীগঞ্জের ১০নং গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পাচৈ গ্রামের মৃত জালাল আহমেদের ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী হাবিব মিয়া (৪৬)। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন অনেক আগে। এখন পেলেন মুরগি, খাঁচা, ওষুধ ও ফিড। হাবিবের তাই খুশির অন্ত নেই। মুরগি পালন করে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করেন হাবিব। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না বলেও আশাবাদী তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান কথায় কথায়। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই ও বেঁচে থাকার একটা অবলম্বন পেয়েছেন। স্বপ্ন দেখছেন একদিন বড় খামারি হবেন।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটওয়ারী মোবাইল ফোনে শেয়ার বিজকে বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে অসহায় অসচ্ছল পরিবারের মাঝে সংসদ সদস্যের সুচিন্তিত পরিকল্পনায় সুষ্ঠুভাবে মুরগিসহ উপকরণ বণ্টন করা হয়। অসহায় মানুষ ভালো থাকুকÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..