দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

সোনালী পেপারের লেনদেন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সব ঠিকঠাক, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন। দীর্ঘদিন ওটিসি মার্কেটে থাকা সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেডের মূল বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার কথা ছিল। দুই এক্সচেঞ্জেই এজন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল গত ২ জুলাই। কিন্তু সকাল ৮টায় ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয় আপাতত লেনদেন স্থগিত। তবে কী কারণে লেনদেন স্থগিত হয়েছে, তার কারণ জানে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

লেনদেন স্থগিত হওয়ার কারণটি বিনিয়োগকারীদেরও অবহিত করা হয়নি। তবে তারা ধারণা করছেন, সোনালী পেপারের শেয়ারসংখ্যা কম হওয়ায় এটির মাধ্যমে বড় ধরনের কারসাজি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর মূল বাজারের বাইরে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে ছিল সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড। সম্প্রতি কোম্পানিটি মূল মার্কেটে লেনদেন ফিরে আসার প্রস্তুতি নেয়। এজন্য প্রয়োজনীয় শর্তও পরিপালন করে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) অনুমোদন দেয়। সোনালী পেপারের মূল মার্কেটে ফিরে আসার খবরে উৎসাহী হয়ে ওঠেন বিনিয়োগকারীরা।

গত ২ জুলাই থেকে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে চালু হওয়ার কথা ছিল। এজন্য দুই এক্সচেঞ্জ ও কোম্পানি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেয়। দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ২ জুলাই সকালে সোনালী পেপারের কর্মকর্তাদের জানানো হয় লেনদেন আপাতত স্থগিত। কিন্তু কোনো কারণ বলেনি প্রাইমারি রেগুলেটর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

এ বিষয়ে সোনালী পেপারের কোম্পানি সচিব মো. রাশেদুল হোসেইন গতকাল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘মূল মার্কেটে লেনদেন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে একটি নোটিসে বলা হয়, লেনদেন আপাতত স্থগিত। তবে কী কারণে লেনদেন স্থগিত, তার কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আমরা অপেক্ষা করছি।’

অবশ্য ২ জুলাই পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক ট্রেডিং শুরু হলে ডিএসইর ওয়েবসাইটে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত সোনালী পেপারের লেনদেন ২ জুলাই থেকে শুরু হবে না।’

এ বিষয়ে জানতে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে। এসএমএসও পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি।

জানা গেছে, মূল মার্কেটে লেনদেনের ক্ষেত্রে কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস হওয়ার কথা ছিল ওটিসি মার্কেটের শেষ ক্লোজিং প্রাইস। অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি ওটিসি মার্কেটে কোম্পানিটির ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২৭৩ টাকা। সে জন্য ২৭৩ টাকাই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস হিসেবে নির্ধারণ করার কথা ছিল।

কোম্পানির সার্কিট ব্রেকার বা প্রাইস লিমিট লেনদেনের প্রথম কার্যদিবস থেকেই কার্যকর হবে। ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে লেনদেন শুরু হবে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে এবং পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) পর্যন্ত ‘জেড’ ক্যাটেগরিতেই কোম্পানিটির লেনদেন হওয়ার শর্ত ছিল।

এর আগে ডিএসইর পর্ষদ সভায় কোম্পানিটির পুনঃতালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সময়ে ডিএসই’র মতো কোম্পানিটিকে পুনঃতালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয় সিএসই  কর্তৃপক্ষ।

এর আগে পুঁজিবাজারের মূল মার্কেটে ফিরতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন করে সোনালী পেপার কর্তৃপক্ষ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়ে গত ২৭ নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে পুনঃতালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকা ও বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করাসহ কয়েকটি কারণে ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর সোনালী পেপারকে মূল মার্কেটের তালিকাচ্যুত করে ওটিসি মার্কেটে পাঠানো হয়।

মূল মার্কেটে ফিরতে যে কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে ধারাবাহিক তিন বছর মুনাফায় থেকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে হয়। তবে সোনালী পেপারকে এই দুটি শর্ত থেকে অব্যাহতি দেয় বিএসইসি। বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, মন্দা বাজারে এ দুটি শর্ত থেকে সোনালী পেপারকে অব্যাহতি দিয়ে বিএসইসি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

তথ্য বলছে, ১৯৭৭ সালে ব্যবসা শুরু করে সোনালী পেপার। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৫ সালে। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তাদের শেয়ার রয়েছে ৬৯ দশমিক তিন শতাংশ।

২০১৮-১৯ হিসাববছরে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে চার টাকা ১৯ পয়সা। ২০১৯-২০ হিসাববছরের অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির ইপিএস (শেয়ারপ্রতি আয়) হয়েছে এক টাকা ৯৪ পয়সা। কোম্পানিটির সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাববছরে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩৩৬ টাকা ৯০ পয়সা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..