দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি পায়নি ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি পায়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় আজকের সমাবেশ স্থগিত করেছে ঐক্যফ্রন্ট। বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক শোকসভা করতে চেয়েছিল ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই জোট।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে গত বুধবার জোটের স্টিয়ারিং কমিটির এক বৈঠকে ওই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডে কামাল হোসেনের বাসায় তার সভাপতিত্বে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির আরেক সভায় কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে পুলিশ বলছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে অন্য স্থানে সমাবেশ করতে বলা হলেও তারা রাজি হয়নি।

গতকাল সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের দফতরপ্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার অনুমতি না দেওয়ায় আগামীকাল (আজ) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গণ শোকসমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিকল্পধারার আহ্বায়ক নুরুল আমিন ব্যাপারী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরউল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া।

বৈঠকে ফ্রন্ট নেতারা সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি না পেলে কী করবেনÑসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ড. কামাল বলেন, অনুমতি না দেওয়া মানে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করছে। যদি এ ধরনের সংবিধান লঙ্ঘন করা শুরু করে, আমি তো মনে করি দেশের মানুষের তাদের (সরকার) ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া উচিত।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভোলার ঘটনাসহ সার্বিক অবস্থায় নাশকতার আশঙ্কায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সেকেন্ড অপশন হিসেবে তাদের মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো জবাব দেয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরাব ফাহাদকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করে তারই আবাসিক হল শেরেবাংলা হলের ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। পরদির ভোরে এ ঘটনা জানাজানি হলে বুয়েটসহ সারা দেশ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগ কর্মীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাগরিক শোকসভা করতে চেয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সর্বশেষ..