বিশ্ব বাণিজ্য

সৌদিতে হামলার পর তেলের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্ববাজারে হু-হু করে বেড়ে গেছে জ্বালানি তেলের দাম। সৌদি আরবের রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর দুটি স্থাপনায় ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গেছে। গতকাল বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। খবর: বিবিসি।
হামলার পর গতকাল বিশ্ববাজারে প্রথম দিনের লেনদেনের শুরুতে লন্ডনের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল দাঁড়িয়েছিল ৭১ ডলার ৯৫ সেন্টে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ব্র্যান্ডের জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে ৬৩ ডলার ৩৪ সেন্ট হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের জরুরি মজুত ব্যবহারের অনুমোদন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে তেলের দাম কিছুটা কমে আসে। শেষ পর্যন্ত লন্ডনের বাজারে প্রতি ব্যারেল ৬৬ ডলার ৮৬ সেন্টে স্থির হয়। তবে তাও আগের দিনের তুলনায় ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম স্থির হয় ৬০ ডলার ৭৪ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে শনিবার ভোরে আরামকোর সবচেয়ে বড় তেল পরিশোধনাগার আবকায়িক ও খুরাইসে ড্রোন হামলা হয়। হামলার পরপরই দুটি কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ওই দিনই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার কারণে আরামকোর উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দেশের তেল উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। আরামকো এক বিবৃতিতে জানায়, দুই হামলার কারণে সৌদি আরবের তেল উৎপাদনের পরিমাণ সাময়িক সময়ের জন্য দিনে ৫৭ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। অর্থাৎ বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
সৌদি আরবে তেলের উৎপাদন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এখন সেই আশঙ্কা সত্যি হলো। হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে। আরামকো জানিয়েছে, তেলের উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।
ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আরামকোর দুটি স্থাপনায় ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করে। হুতি বিদ্রোহীদের ভাষ্য, হামলার জন্য তারা ১০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। হামলার ঘটনায় ইরানকে সরাসরি দোষারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছে।

সর্বশেষ..