বিশ্ব সংবাদ

সৌদি আরবের ৭৬ নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সৌদি ক্রাউন প্রিন্স সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ তথ্য প্রকাশের পরপরই ৭৬ সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে ভিসা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার বাইডেন প্রশাসন এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। খবর: বিবিসি, আল-জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সৌদি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি বলেন, যাদের উদ্দেশ করে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তারা নিজ দেশের বাইরেও ভিন্নমত দমনে ভয়াবহ সব কার্যকলাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। যেসব অপরাধী কোনো বিদেশি সরকারের হয়ে ভিন্নমতের মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগও ক্রাউন প্রিন্সের পাশে থাকা কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক উপ গোয়েন্দাপ্রধান আহমাদ আসিরি এবং তার ব্যক্তিগত সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের ইস্তানবুলে গিয়ে খাসোগিকে” ধরতে বা খুন করতে অভিযানের জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অনুমোদন দিয়েছিলেন। এজন্য বেশ কয়েকজন সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও যুবরাজের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যদিও সৌদি আরব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য।

মোহাম্মদ বিন সালমানও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০১৮ সালে সাংবাদিক খাসোগি তুরস্কের ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে গেলে তাকে হত্যা করে তার দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়। ৫৯ বছর বয়সী এ সাংবাদিক একসময় সৌদি সরকারের উপদেষ্টা ও রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে একপর্যায়ে তিনি আনুকূল্য হারান এবং ২০১৭ সালে নিজেই যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে চলে যান। সেখান থেকে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে মাসিক কলাম লিখতেন। এতে যুবরাজের নীতির সমালোচনা করতেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ইস্তানবুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে গ্রেপ্তার বা হত্যার জন্য অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন। তিনি সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের ছেলে এবং দেশটির বর্তমান শাসক।

এ ধারণার পেছনে তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়। প্রথমত, ২০১৭ সাল থেকে সৌদি আরবের সব সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার একক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। পাশাপাশি ওই অভিযানে প্রিন্স মোহাম্মদের একজন উপদেষ্টা ও তার প্রতিরক্ষা দলের সদস্যের সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা। এছাড়া বিদেশে নির্বাসনে থাকা ব্যক্তিদের মুখ বন্ধ রাখতে সহিংস পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে প্রিন্স মোহাম্মদের সমর্থন দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে খাসোগির হত্যার সঙ্গে জড়িত বা দায়ী ব্যক্তিদের নাম দেয়া হয়েছে। তবে আর কারা কারা শামিল ছিল তা নিশ্চিত নয় বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..