সম্পাদকীয়

সৌদি আরবে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ করুন

জনশক্তি রফতানিতে বাংলাদেশ অন্যতম। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি কর্মরত। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিও বলা চলে। উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষত সৌদি আরব থেকে নারীকর্মীরা নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরে আসার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাদের অনেকেই দেশে ফিরে যে ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছেন, তা এক কথায় ভয়াবহ। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা উচিত।

সৌদি আরব থেকে নারীকর্মীদের দেশে ফিরে আসার বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরে গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। খবর অনুযায়ী, চলতি বছর ৯০০ জনের মতো বাংলাদেশি নারীকর্মী দেশে ফেরত এসেছেন। সেখানে ধর্ষণ থেকে শুরু করে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। এমনকি অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। গত সপ্তাহে আবিরন বেগম নামে এক নারীকর্মীর মরদেহ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছে। তার মৃত্যু সনদে হত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। এভাবে নারীদের নির্যাতন-নিপীড়ন ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

দীর্ঘদিন শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর শর্তে ফের কর্মী নেওয়া শুরু করে সৌদি আরব। এরপর চার বছরে অন্তত তিন লাখ গৃহকর্মী গেছেন। তাদের মধ্যে এরই মধ্যে আট হাজার দেশে ফিরেছেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। তারপরও সরকারি বিভিন্ন দফতর থেকে কর্মী পাঠানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে দায়সারা গোছের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। অথচ এ বছরই ৪৮ নারী গৃহকর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে, যার মধ্যে ২০ জনই আত্মহত্যা করেছেন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট, রক্ষণশীল সমাজের সৌদি সমাজে এদেশের নারীরা নিরাপদ নয়। নির্যাতনের শিকার হয়েও বিচার পেয়েছেন এমন নজিরও পাওয়া যায়নি। এরপরও সেখানে নারীকর্মী পাঠানোর পক্ষে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

ভাগ্য ফেরানোর আশায় অনেকে সর্বস্ব বিক্রি দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অর্থনীতির স্বার্থে বিদেশি শ্রমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সত্য; তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট দেশে কর্মপরিবেশ নিরাপদ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। নিরাপদ মনে করলে তবেই কর্মী পাঠানো যেতে পারে। এছাড়া বিদেশি শ্রমবাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা বাড়ছে, সেই সঙ্গে দক্ষ শ্রমশক্তির চাহিদাও বাড়ছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ পাঠানোর বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি। এছাড়া বিদেশে কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

সর্বশেষ..