প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সৌদি আরবে ৬৫ কোটি ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সৌদি আরবের কাছে প্রথমবারের মতো বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তির আওতায় সৌদিকে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার (৬৫ কোটি ডলার) মূল্যের আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে ওয়াশিংটন। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর উপসাগরীয় এ দেশটির কাছে প্রথম বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল বাইডেন প্রশাসন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ তথ্য জানিয়েছে। খবর: এএফপি, আল জাজিরা।

এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, সৌদি আরবের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত এ অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিমালার ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা বন্ধু দেশ সৌদি আরবের নিরাপত্তার উন্নতিতে এটি সহায়তা করবে।

ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২৮০টি অত্যাধুনিক মাঝারি পাল্লার ‘এআইএম-১২০সি’ ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কিনতে পারবে সৌদি আরব।

মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও ইয়েমেনে হামলা ও দেশটিতে সৃষ্ট মানবিক সংকটের কারণে মার্কিন রাজনীতিকরা রিয়াদের সমালোচনা করে আসছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সৌদির কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করাসহ ইয়েমেন ইস্যুতে রিয়াদের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন জো বাইডেন।

বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে নাÑএ নিশ্চয়তার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র এতদিন সৌদি আরবের কাছে সামরিক ক্রয়-বিক্রয় স্থগিত রেখেছিল। তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন বা উন্নতি না হলেও এর কয়েক মাসের মাথায় ফের দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলো বাইডেন প্রশাসন। অবশ্য টুইটবার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যুরো অব পলিটিক্যাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছে, এ মিসাইলগুলো ভূমিতে হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, গত বেশ কয়েক বছরে সৌদি আরবে আন্তঃসীমান্ত হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আমরা দেখতে পেয়েছি। ফলে দেশটিতে থাকা মার্কিন বাহিনী ও ৭০ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক ঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র আন্তঃসীমান্ত হামলা থেকে সৌদিকে নিরাপদে রাখতে সহায়তা করবে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।