বিশ্ব বাণিজ্য

সৌদি জোটের হামলায় ইয়েমেনে চার বছরে নিহত ৭৫ হাজার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেন যুদ্ধে এক লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের (এসিএলইডি) নতুন এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, হত্যার শিকার ইয়েমেনিদের মধ্যে অন্তত ৭৫ হাজার মানুষ সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ হামলায় প্রাণ হারিয়েছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হুথিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। জাতিসংঘ বলছে, এ যুদ্ধের কারণে এক কোটিরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

এসিএলইডি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলা শুরুর পর এক লাখেরও বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি হামলায় নিহত হয়েছে। সংস্থাটির ধারণা অনুযায়ী ২০২০ সাল নাগাদ হত্যার শিকার ইয়েমেনির সংখ্যা এক লাখ দুই হাজারে পৌঁছাবে।

এসিএলইডি’র মতে, এই বিপুলসংখ্যক বেসামরিক হতাহতের মধ্যে বড় একটি অংশের মৃত্যুর জন্য সৌদি আরব ও তাদের মিত্ররা দায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক হতাহতের মধ্যে ৬৭ শতাংশের কারণ সৌদি জোটের বিমান হামলা। সে হিসেবে হত্যার শিকার এক লাখ মানুষের মধ্যে ৬৭ হাজারই বিমান হামলার কারণে প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া আট হাজারের বেশি মানুষকে সরাসরি টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

ইয়েমেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির বছর হিসেবে এরই মধ্যে চিহ্নিত হয়েছে ২০১৯ সাল। এ বছরে এখন পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

সর্বশেষ..