বিশ্ব সংবাদ

সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে খাসোগির বাগদত্তার মামলা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার অভিযোগে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এ মামলা করেন খাসোগির বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিজ। খবর: এএফপি ও রয়টার্স। 

মামলায় হাতিস চেঙ্গিজ অভিযোগ করেছেন, সালমানের নির্দেশে খাসোগিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল সৌদি কনস্যুলেটে। যুবরাজের নাম থাকলেও বাকি ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ নেই মামলায়। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ সংগ্রহে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যান খাসোগি। বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিজ। কিন্তু ৫৯ বছর বয়সী সাংবাদিককে ফিরে আসতে দেখা যায়নি। তার দেহাবশেষও পাওয়া  যায়নি।

এর আগে ইস্তাম্বুলের আদালত সৌদি আরবের যুবরাজের সাবেক দুই সহযোগীসহ ২০ জন সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করেন। গত মাসে সৌদি আরবের আদালত জামাল খাসোগি হত্যায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনস্যুলেটে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ খাসোগি। ওইদিন ১৫ সৌদি নাগরিকও সেখানে ঢোকেন। তারা কনস্যুলেটে যাওয়ার আগে এর পাশের দুটি আন্তর্জাতিক হোটেলে ওঠেন। কনস্যুলেটের অপারেশন শেষ করে ওইদিনই তারা তুরস্ক ত্যাগ করেন। তাদের বহনকারী ব্যক্তিগত বিমান দুটি কায়রো ও দুবাই হয়ে রিয়াদের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এদিকে এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল, সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ ইউনিটের সদস্য। তাদের একজন সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন খাসোগি। এরপরই ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতি মাসে কলাম লিখতেন। কলামে তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে নানা সমালোচনামূলক লেখা লিখেছেন। নিজের কলামেই তিনি লেখেন, সালমান বাদশাহ হলে খাসোগি ভিন্নমত পোষণের কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন।

ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে কাগজপত্র ইস্যু করার জন্য ঢোকেন খাসোগি। কিন্তু তার পরিবার ও বন্ধুবান্ধব এবং তুরস্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি কনস্যুলেট থেকে আর বের হননি। তবে সৌদির কর্মকর্তারা খাসোগির নিখোঁজ ও তার হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। তবে তাদের এ দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..