বিশ্ব সংবাদ

সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘মানবতাবিরোধী’ অপরাধের অভিযোগে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) জার্মানির একটি আদালতে এ মামলা করেছে। সোমবার জার্মানির কার্লসরুহ এলাকার ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিসের কাছে এসব নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে। খবর: সিএনএন, গার্ডিয়ান।

সাংবাদিক খাসোগি ২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনস্যুলেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। হত্যাকাণ্ডের আগে সৌদির শাসকরা জামাল খাসোগির ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে বলে অভিযোগ এনে জার্মানির আন্তর্জাতিক বিচার আইনের আওতায় এ ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আরএসএফের আইনজীবীরা।

বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরবের শাসনব্যবস্থা ও রাজপরিবারের একাধিপত্য নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টে কলাম লিখতেন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। জার্মানির আদালতে বিন সালমানের বিরুদ্ধে এমন এক সময় এই মামলা করা হলো, যার এক সপ্তাহ আগে খাসোগি হত্যাকাণ্ড সৌদি যুবরাজের অনুমোদনেই সম্পন্ন হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওই তদন্ত প্রতিবেদনের নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দুর্বৃত্তদের অভিযানে খাসোগি খুন হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুবরাজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

কিন্তু রিপোটার্স উইদাউট বরডার্স বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং নীরব করে দেয়ার ক্ষেত্রে সৌদির রাষ্ট্রীয় নীতির নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জার্মানির কার্লসরুহ এলাকার ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিসের কাছে এসব নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে কারাবন্দি ৩৪ সাংবাদিকের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য আদালতের কাছে উপস্থাপন করেছে আরএসএফ। এরই মধ্যে ইসলাম অবমাননার দায়ে দেশটিতে ২০১২ সাল থেকে গৃহবন্দি ব্লগার রাইফ বাদাওয়ির তথ্যও রয়েছে।

ফরাসি এ গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ক্রিস্টোফার ডেলোইরে এক বিবৃতিতে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য আমরা জার্মান প্রসিকিউটরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে কারও থাকা উচিত নয়। বিশেষ করে যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের ঝুঁকি থাকে।

এদিকে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত সোমবার ওই সাংবাদিকের বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিস ক্রাউন প্রিন্সের অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি খাসোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৭৬ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই তালিকায় নেই হত্যার ‘নির্দেশদাতা’ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন জানিয়েছে, সৌদি আরবের ‘শীর্ষ নেতা’ হওয়ার কারণেই তার ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না। কিন্তু এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বাইডেন প্রশাসন ক্রাউন প্রিন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে ক্ষোভ বাড়ছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্সের (ওডিএনআই) প্রথম প্রতিবেদনটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর দ্বিতীয় সংস্করণে তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..