প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সৌরশক্তি জোটে ভারতের সঙ্গে থাকবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক সৌরশক্তির জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। এ জোটের আওতায় সৌরশক্তিকে সহজলভ্য করা এবং তার ওপর গবেষণা ও উন্নয়ন বিকাশে কাজ করা হবে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) সভা শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে দুদিনের আনুষ্ঠানিক সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। গতকাল রোববার ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে তিনি ঢাকায় আসেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বঙ্গবন্ধু বিমানঘাঁটিতে তাকে স্বাগত জানান। সফরের প্রথম দিনেই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ পরামর্শক কমিশনের সভায় অংশ নেন তারা। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জ্বালানি ও তথ্য বিষয়ে দুটি চুক্তি সই হয়।

পরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন দুই দেশের মন্ত্রী। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ভারতের সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, সভায় সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে অবস্থান নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আসা মানুষদের (রোহিঙ্গা পরিচয়টি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লিখিত হয়নি) বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।

এ প্রসঙ্গে ভারতীয় মন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত লোকদের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই স্বাভাবিক অবস্থা (নরমালসি) সৃষ্টি হতে পারে বলে ভারত মনে করে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে রাখাইন রাজ্যে আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার, যা সেখানে বসবাসরত সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এজন্য ভারত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে কফি আনান কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থনের কথাও ব্যক্ত করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপারেশন ইনসানিয়াতের আওতায় তিন লাখ বাস্তুচ্যুত লোকের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে।

এছাড়া গত কয়েক বছরে তিন ধাপে দেওয়া আট বিলিয়ন ডলারের ঋণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা ভারতের পক্ষ থেকে কোনো দেশকে দেওয়া সর্বোচ্চ ঋণ। এটা বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের জন্য অমূল্য বিবেচিত হবে বলে তিনি আশা করেন। এছাড়া ক্ষুদ্র আর্থিক প্রকল্পে অনুদান দিচ্ছে ভারত। গত তিন বছরে এমন ক্ষুদ্র আকারের ২৪টি প্রকল্প শেষ করা হয়েছে, যা ছাত্রাবাস, টিউবয়েল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, এতিমখানা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে। রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ বিভিন্ন শহর উন্নয়নে ৫৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আজ (সফরের দ্বিতীয় দিন) আরও ১৫টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন ভারতের সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব প্রকল্প শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করবে।

এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে সুষমা স্বরাজ বলেন, ভারত থেকে এখন ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছে এবং এটা শিগগিরই দ্বিগুণ হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সৌরশক্তির জোটে বাংলাদেশ ভারতের পাশাপাশি কাজ করবে বলেও একমত হয়েছে। এ জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দুই দেশ কাজ করবে। এর আওতায় সৌরশক্তি সহজলভ্য করার পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের সময় বলেছিলেন, এ আমলেই তিস্তা চুক্তি হবে। এ বিষয়ে তিনি সুষমা স্বরাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উল্লেখ্য, তিন দিনের সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকের সূচি রয়েছে। সূত্রমতে, গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এবং রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সোমবার বিকালে ঢাকা ছাড়ার আগে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে তার মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে প্রথম বিদেশ সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন সুষমা স্বরাজ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটি বাংলাদেশে তার দ্বিতীয় সফর। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও ঢাকায় তিন দিনের সফর করেছেন।