স্কুল-কলেজে সংক্রমণ ছড়ানোর কোনো তথ্য পাইনি: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্কুল-কলেজ খোলার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে কভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়ানোর কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আসেনি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

গতকাল রোববার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্কুল-কলেজ খোলার পর এখন পর্যন্ত যে তথ্য পেয়েছি, তাতে কোনো জায়গায় সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা এখন পর্যন্ত মনে হয়নি। তবে আমাদের খুব সচেতন থাকতে হবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একটা সমাজ তো তাদের অভ্যাস রাতারাতি বদলাতে পারে না। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাসগুলো আস্তে আস্তে বিস্তৃতি লাভ করবে। একদিনে আমরা সব আশা করে ফেলছি তা না। সবার মধ্যে একটা চেষ্টা দেখছি। যেটা দেখেছি সেটা দিয়ে আমি সন্তুষ্ট। সবার চেষ্টা আছে। আমরা আশা করছি, আমরা একটি স্বাস্থ্যসম্মত জায়গায় পৌঁছাতে পারব।’

সংক্রমণ কমে আসায় গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে একেক দিন একেক সময় একেক শ্রেণির ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

একজন সাংবাদিক শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তার আসার খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিষ্কার করা হয়েছে।

উত্তর দিতে গিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘আমরা এখানে আসলাম, তারা জানতেন। সে কারণে প্রস্তুতি ভালো। আমরা আশা করব, এমনিতেও তাদের প্রস্তুতি খুব খারাপ না। এটি অনেক বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আরও অনেক ভালো হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখেছি। আর পরিষ্কারের কাজ তো সব সময়ই হতে পারে। সারাক্ষণই হতে থাকবে। আমি এসেছি বলে পরিষ্কার হয়েছে কি না, তা তো বলতে পারছি না। তবে আমরা এখানে যেমন জানিয়ে এসেছি, অনেক জায়গায় না জানিয়ে চলে যাব। আপনাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারছি লোকে মানার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে।’

স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে অভিভাবকরা ভিড় করছেন। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তেমন কিছু করার নেই। সেখানে অনুরোধের বিষয় আছে, জোর করার কিছু নেই। অভিভাবকদের আমি সচেতন হতে বলব। তারা অপেক্ষা করবেন, কিন্তু অপেক্ষাটা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে হয়।’

মহামারির মধ্যে দেড় বছরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে দীপু মনি বলেন, ‘মাত্র তো স্কুল-কলেজ খুলেছে। আমরা তথ্য নিচ্ছি। তথ্যের ভিত্তিতে সমস্যাগুলো দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কে কবে খুলবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই সে সিদ্ধান্ত নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থীর টিকার রেজিস্ট্রেশন হয়নি, তাদের ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা টিকার রেজিস্ট্রেশন করতে বলেছি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ই সিদ্ধান্ত নেবে।

এরপর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী। ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং বাকি নিয়মগুলো মানা আসলে আমাদের অভ্যাসের অংশ ছিল না। এখন এটাকে আমাদের অভ্যাসের অংশ করতে হবে। আর অভ্যাস বদলানোটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এটার জন্য সময় লাগে। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের বেশ চাপ দিয়ে এটা মানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি যে কটা প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি, দেখে আমার ভালো লেগেছে। তামিরুল মিল্লাত মাদরাসায় হোস্টেলও আছে। প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আছে। দু-একটি রুমে পুরোনো বই, পরীক্ষার কাগজপত্র রাখা আছে। রুমটা পরিষ্কার। কিন্তু হয়তো স্যাঁতসেঁতে। আমাদের সব অবকাঠামো যে খুব ভালো অবস্থায় আছে, তা তো নয়। হয়তো কোথায় কোথাও সমস্যা আছে। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। তবে আমার ভালো লেগেছে, যে কটা প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি।’

নতুন সংক্ষিপ্ত কারিকুলামে ক্লাস শুরু হলে সপ্তাহে পাঁচদিন করে ক্লাস হবে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘এক সপ্তাহ আমরা দেখলাম। মোটামুটি সবার উৎসাহ আগ্রহ দেখলাম। নিয়ম মানার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। তাই আমরা এইট, নাইনের সময়টা বাড়ালাম। এ মাসের শেষ পর্যন্ত দেখব আমরা।’

তিনি বলেন, ‘এখন ৪০ মিনিট করে ৮০ মিনিট (দুটি) ক্লাস হচ্ছে। মা-বাবারা ভাবছেন, শুধু দুটো ক্লাসের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে বাচ্চারা আসছে। চারটা ক্লাস করা যায় কি না। কিন্তু চারটা ক্লাস করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে তখন খাবারের বিষয় থাকবে। এত লম্বা সময় না খেয়ে থাকতে পারবে না। তখন মাস্ক খুলতে হবে। সবার বাড়ি থেকে খাবার আনবে। খাবার শেয়ারিং হবে। এতে রিস্ক বেড়ে যেতে পারে। এজন্য আমরা চিন্তা করছি, তিনটা ক্লাস নেয়া যায় কি না। আমরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকব এবং বুঝতে থাকব।’ ed”��r��

বিষয় ➧

সর্বশেষ..