দিনের খবর সারা বাংলা

স্কোয়াশ চাষে সফল মনিরামপুরের হাবিব

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: ইউটিউব দেখে পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি সবজি স্কোয়াশ চাষ করেছিলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের কোদলাপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান। এতে ভালো ফলন পেয়ে সফল স্কোয়াশ চাষি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। বাঙ্গির মতো দেখতে ও মিষ্টি কুমড়ার স্বাদের পুষ্টিকর অস্ট্রেলিয়ান সবজি স্কোয়াশ। উপজেলায় স্কোয়াশ প্রথমবারের মতো চাষ হলেও বাজারে এর চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সবজি হিসেবে এ এলাকায় স্কোয়াশ নতুন হওয়ায় এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে ও দেখতে ক্ষেতে স্থানীয় চাষিরা হাবিবুরের কাছে আসতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।  

হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ইউটিউবে সন্ধান পান অস্ট্রেলিয়ায় সবজি স্কোয়াশের। পরে সিদ্ধান্ত নেন তিনি এ সবজি চাষ করবেন। সে মোতাবেক অনলাইনে বীজের অর্ডার দেন। এক মাস পর বীজ হাতে পেয়ে দেড় বিঘা জমিতে চাষ করেন স্কোয়াশ। এর মাত্র দু’মাসের মাথায় ফলন পাওয়া শুরু করেছেন তিনি। বাজার দামও বেশ ভালো পাচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয়দের কাছে সবজি হিসেবে স্কোয়াশ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হাবিবের এ সাফল্য দেখে এলাকার অনেক চাষিই এখন উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্কোয়াশ চাষে।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কামিল পাস করার পর চাকরির পেছনে ছুটে ক্লান্ত হয়ে ইউটিউবে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নেই নিজের জমিতে স্কোয়াশ চাষের। ইউটিউবে চাষের পদ্ধতি আয়ত্ব করে ৩০০ গ্রাম বীজ সংগ্রহের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করি। হলুদ এবং সবুজ রঙের জাতের বীজের অর্ডার দিই।’ যশোরের একজন বীজ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে তিনি এক মাস পর বীজ হাতে পান।

তিনি আরও জানান, বীজ হাতে পাবার পর তিনি প্রথমে যোগাযোগ করেন স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তুহিন কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে। তার পরামর্শক্রমে তিনি দেড় বিঘা জমি প্রস্তুত করেন। জমি চাষের পর তিনি গোবর সার মিশ্রণ করে বেড করেন। পরে ওই বেডে সারিবদ্ধভাবে স্কোয়াশের বীজ বপনের পর পোকা মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেন। ১৪/১৫ দিন পর বীজ অঙ্কুরোদগম হয়ে চারা গজায়। পরে নিয়মিত সেচ এবং সামান্য রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেন। দেখতে দেখতে গাছ বড় হতে হতে থাকে। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে ফলন দৃশ্যমান হয়।  হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ফলন হয়েছে বেশ সন্তোষজনক।  দ্রুত বাড়ার কারণে ১৫ দিনের মাথায় ক্ষেত থেকে স্কোয়াশ তুলতে শুরু করেছি। সবজি হিসেবে স্কোয়াশ এলাকায় ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্কোয়াশ রান্নার পাশাপাশি সালাতে ব্যবহৃত হয়।’

তিনি জানান, গত মাস থেকে স্কোয়াশ বাজারে বিক্রি শুরু করেন। প্রতি কেজি স্কোয়াশ ২০ থেকে ২২ টাকা হারে বিক্রি হচ্ছে। দেড় বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে স্কোয়াশ চাষে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি ২০ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন। তার আশা, কমপক্ষে এক লাখ টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন। এ দিকে নতুন সবজি চাষে হাবিবের সফলতা দেখে এলাকার অনেক চাষি এখন স্কোয়াশ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ইতোমধ্যে কোদলাপাড়ার অপর চাষি ওবায়দুল ইসলাম আট শতক জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হীরক কুমার সরকার বলেন, ‘নতুন সবজি স্কোয়াশে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি ও ভিটামিন রয়েছে। স্বাদ ভালো হওয়ায় রান্নার পাশাপাশি সালাদেও ব্যবহার হয়ে থাকে। অন্যান্য সবজির তুলনায় মুনাফা বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাকে স্কোয়াশ চাষে চাষিরা উদ্বুব্ধ হচ্ছেন। ফলে বাজারে এ বীজের সরবরাহ দ্রæত স্বাভাবিক হবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..