কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

স্টাইলক্রাফটের শেয়ারদর বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ

সাপ্তাহিক বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বস্ত্র খাতের কোম্পানি স্টাইলক্রাফট লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে চার কোটি ৮২ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ কোটি ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বা ১৮ টাকা ৭০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২০৫ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২০৫ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে চার লাখ ২২ হাজার ৮০৮ শেয়ার তিন হাজার ১৯৯ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর আট কোটি ৫৪ লাখ এক হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৯৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০৫ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ১২০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯৩৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ১৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে সাত টাকা ৭৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা সাত পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে তিন টাকা ৪৮ পয়সা। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে ৪১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৬ টাকা ১৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩১৭ টাকা ৯৩ পয়সা। কোম্পানিটি ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে তিন কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

কোম্পানির ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২০ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বস্ত্র খাতের এ কোম্পানিটি ১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির মোট এক কোটি ২৬ লাখ ২২ হাজার ৫০০ শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক চার দশমিক ০৯ শতাংশ ও বাকি ৫৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ২৬ দশমিক ৫২ ও হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১২৩ দশমিক ১৮।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৬২ লাখ ১৯ হাজার টাকার শেয়ার।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ব্যাংক খাতের কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ৪০ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৮৮ পয়সা, আগের বছর একই সময় যা ছিল যথাক্রমে ৩ টাকা ৯২ পয়সা ও ৩৪ টাকা ৪৫ পয়সা। আর এই হিসাববছরে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ২৯ টাকা ৬ পয়সা, আগের বছর যা ছিল দুই টাকা ৯৫ পয়সা (লোকসান)। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২০ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় অনলাইনে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৪০ পয়সা। এছাড়া ২০২০ সালের ৩১ মার্চ তারিখে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৩১ পয়সা, যা ২০১৯ সালের ৩১ মার্চে ছিল সাত টাকা ৪৪ পয়সা। আর এই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ১২ টাকা ৫৯ পয়সা। আগের বছর একই সময় ছিল ১৫ টাকা ৫২ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন, ২০২০) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৬৪ পয়সা। এছাড়া ২০২০ সালের ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৮৩ পয়সা, যা ২০১৯ সালের ৩০ জুনে ছিল ৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা। প্রথম দুই প্রান্তিক বা ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন, ২০২০) শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ২১ টাকা ৯৬ পয়সা, আগের বছর একই সময় ছিল ১৯ টাকা ৮১ পয়সা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছয় দশমিক ৫৬ শতাংশ বা এক টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২৬ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৫ টাকা ৯০ পয়সা। দিনজুড়ে ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৩৫৬টি শেয়ার মোট এক হাজার ৩৫৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৯ কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আর দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৬ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ১৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ২৬ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।

১৯৮৫ সালে পুজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটেগরির এই কোম্পানি। দুই হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৬১০ কোটি টাকা। রিজার্ভে আছে তিন হাজার ৯৩৬ কোটি ৬৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ উদোক্তা বা পরিচালক, ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..