কোম্পানি সংবাদ

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের দর বেড়েছে ৩৯ শতাংশ

সাপ্তাহিক বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সিরামিক খাতের কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে সাত কোটি ছয় লাখ ৭৮ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৩৫ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

এদিকে কোম্পানিটি ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৫৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৩৭ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে এক টাকা ৪৫ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় কারখানা প্রাঙ্গণে (সায়দানা কে বি বাজার, জয়দেবপুর, গাজীপুর) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ নভেম্বর।

এদিকে সিরামিক খাতের কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানার মূল উৎপাদন প্রক্রিয়ার সংস্কারের পর পুনরায় চালু করেছে। গত ৭ আগস্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ কারখানার সংস্কারের জন্য মূল উৎপাদন প্রক্রিয়ার কার্যক্রম আংশিক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা অক্টোবর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে এই সংস্কারকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে, তাই গত ১৪ অক্টোবর থেকে কোম্পানিটির কারখানা বন্ধ থাকার কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর দুই দশমিক ৯৮ শতাংশ বা ১৭ টাকা ৪০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৫৬৬ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫৭৩ টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৫৬৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০৭ টাকায় হাতবদল হয়। ওইদিন এক লাখ পাঁচ হাজার ৮৩৫টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৩৭২ বার হাতবদল হয়, যার বাজার দর ছয় কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা। গত এক বছরে শেয়ারদর ১৩২ টাকা থেকে ৭৫৯ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি দুই শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৫৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৪ টাকা ৯৬ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এক কোটি এক লাখ ৯০ হাজার টাকা।

এর আগে ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় ইপিএস হয়েছে এক টাকা ছয় পয়সা এবং এনএভি ১৪ টাকা ৯০ পয়সা। এটি তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৫০ পয়সা ও ১৪ টাকা ৩৬ পয়সা।

কোম্পানিটি ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে। ১০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ছয় কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৫০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক পাঁচ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্টাইলক্রাফট লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন আট কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৯৬ লাখ তিন হাজার টাকার শেয়ার।

সম্প্রতি বস্ত্র খাতের কোম্পানি স্টাইলক্রাফট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ আগামীতে কোম্পানিটির প্রডাক্ট লাইন সম্প্রসারণ বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা ব্যালেন্সিং, আধুনিকায়ন, বিস্তার ও প্রতিস্থাপনের (বিএমআরই) জন্য সাত কোটি ৬০ লাখ টাকার অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ১৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যবসার সম্প্রসারণের পাশাপাশি চলতি মূলধন জোগানের লক্ষ্যে সঞ্চিত আয় মূলধন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। আর এই বোনাস শেয়ার পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে দেওয়া হবে। এছাড়া কোম্পানির ক্যাপিটাল রিজার্ভ কিংবা রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ অথবা আন-রিয়েলাইজড গেইন অথবা পরিশোধিত মূলধন কমিয়ে অথবা এমন কোনো উৎস থেকে এই বোনাস দেওয়া হবে না, যার কারণে ডিভিডেন্ড পরবর্তী রিটেইনড আর্নিংস নেগেটিভ অথবা ডেবিট ব্যালেন্স হয়।

৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে সাত টাকা ৭৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা সাত পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে তিন টাকা ৪৮ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ১৫ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশান-১-এ অবস্থিত স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টার লিমিটেডের কিংস হলে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ নভেম্বর। এর পরের অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ইয়াকিন পলিমার, মেট্রো স্পিনিং, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং, মুন্নু জুট স্টাফলার্স ও সুহƒদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

সর্বশেষ..