প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্তনে নানা ধরনের চাকা

ক্যানসার ছাড়াও স্তনে বিভিন্ন কারণে চাকা বা গোটা হতে পারে। স্তনে চাকা হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে।

ফাইব্রোএডিনোসিস: মাসিকের আগে বুকে চাকা চাকা ও ব্যথা অনুভূত হয়, যা মাসিক হওয়ার পর আবার কমে যায়। মাসিকের সময় যে হরমোন নিঃসরিত হয়, তার কারণে স্তনের টিস্যুতে কিছু পরিবর্তন হয়, এতে এ ধরনের অনুভূতি হয়।

ফাইব্রোএডিনোমা: সহজেই নড়াচড়া করে ও ব্যথাহীন হয়ে থাকে। এজন্য এ ধরনের চাকাকে ব্রেস্ট মাউস বলা হয়। সাইজ ছোট হলে আপনাআপনি মিলিয়ে যেতে পারে। তবে বড় হলে অস্ত্রোপচার করতে হয়।

ব্রেস্ট সিস্ট: সিস্ট হচ্ছে পানিভর্তি টিউমার। এগুলো যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে নারীদের মেনোপজের আগে বেশি হয়। সিস্টগুলো মসৃণ ও গোলাকার হয়ে থাকে। এর চিকিৎসা হচ্ছে নিডলের মাধ্যমে পানি অপসারণ করা।

ব্রেস্ট অ্যাবসেস: এটা স্তন্যদায়ী মায়েদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া আঘাতপ্রাপ্ত স্থান, বিশেষ করে ক্র্যাক নিপ্ল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে পুঁজ তৈরি করে। প্রচণ্ড ব্যথা করে।

ফ্যাট নেক্রোসিস: কোনো কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হলে স্তনের ফ্যাটি টিস্যু নেক্রোসিস হয়ে চাকা তৈরি করে।

লাইপোমা: এটা ফ্যাটি টিস্যুর টিউমার, যা ক্যানসার নয়। আকৃতি বড় হলে অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করতে হয়।

স্তন ক্যানসার: স্তনে চাকার একটি কারণ হচ্ছে ক্যানসার। অন্যান্য চাকার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো, এটি সহজে নড়াচড়া করানো যায় না, উপরিভাগ অমসৃণ এবং সাধারণত ব্যথাহীন হয়ে থাকে।

নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করে দেখা যায়। প্রতি মাসে মাসিকের পর ঘরে বসেই এ পরীক্ষা করতে পারেন। চাকা অনুভূত হলে অবশ্যই ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে এর ধরন নির্ণয় করতে হবে। চাকা মাসিক হওয়ার পরও মিলিয়ে না গেলে, ধীরে ধীরে বড় হলে, অথবা ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। স্তনের চামড়ায় কোনো পরিবর্তন, যেমন কুঁচকানো ভাব, লোমকূপের ছিদ্র বড় হয়ে যাওয়া, অথবা রঙের পরিবর্তন হওয়া, নিপ্ল ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে অথবা এ থেকে কোনো অস্বাভাবিক ডিসচার্জ বা রস বের হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পরিবারে যাদের স্তন ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাদের সচেতন হতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হরমোনাল পিল তিন-পাঁচ বছরের বেশি গ্রহণ না করা এবং শিশুকে সঠিকভাবে বুকের দুধ পান করাতে হবে।

ডা. মুন্নি মমতাজ

সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ

তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ