সম্পাদকীয়

স্থলবন্দরে চিহ্নিত দুর্নীতি রোধে ব্যবস্থা নিন

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি হলে নাগরিকরা যে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন, সেটা খুবই স্বাভাবিক। দুর্নীতির আন্তর্জাতিক সূচকেও প্রতিবছর আমাদের অবস্থান তলানির দিকে। এটা এক ধরনের গ্লানি; যা আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি বছরের পর বছর ধরে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কী কী উপায়ে দুর্নীতি হয়, তা মোটামুটি রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিদের ভালোভাবেই জানা। তারপরও এসব দুর্নীতির মূলোৎপাটন হয় না; যা দুঃখজনক। তবে আশার কথা হলো সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করেছে। তবে কেবল ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকার সুযোগ নেই। এ ঘোষণার কার্যকর প্রতিফলন দেখতে চায় নাগরিকরা।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘স্থলবন্দরে দুর্নীতির ১৪টি উৎস চিহ্নিত করেছে দুদক’ শিরোনামে প্রতিবদন প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি চিহ্নিত করে সে বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যদিও প্রতিবেদনটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। তবে দুদক যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই বিশ্বাস।

দুর্নীতি বড় ধরনের সামাজিক ব্যাধি। দুর্নীতি কমলে যে দেশের উন্নয়ন আরও বহুগুণে ত্বরান্বিত হতোÑতা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, দুর্নীতি না হলে দেশের চেহারা পাল্টে যেত। প্রধানমন্ত্রীর এ উপলব্ধি অত্যন্ত যৌক্তিক। এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মান্য করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উচিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করা। তা না হলে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও তার সুফল পাবে না দেশের জনগণ। ফলে বাড়বে সামাজিক বৈষম্য।

সম্পদ ও আয় বৈষম্য পরিমাপ করা হয় বিশ্বব্যাংকের জিনি সহগ সূচক দিয়ে। ওই সূচক অনুসারে দেখা যাচ্ছে, দেশে ধীরে ধীরে বৈষম্য বাড়ছে। অথচ ১৯৯০ সালের দিকেও সম্পদ ও আয় বৈষম্য অনেক কম ছিল। উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্য বাড়তে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মূলত দুর্নীতি সমাজে বৈষম্য বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। কাজেই বৈষম্য দূর করে বর্তমান সরকার ঘোষিত কাক্সিক্ষত কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই দুর্নীতি রোধ করতে হবে। তাছাড়া যারা দুর্নীতি করে মোটা অঙ্কের অর্থ লুটপাট করেন, তারা সে অর্থ বিদেশে পাচার করে দেন বলেই ধারণা। প্রতিবছর দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানা যায়। এ অর্থের প্রধান উৎসই দুর্নীতি। কাজেই সরকারের সব দপ্তরে দুর্নীতি দূর করা একান্ত আবশ্যক। তাই দুদক নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..