প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্থানীয়দের হামলায় শিক্ষার্থী আহত, বিচারের দাবি

প্রতিনিধি, বশেমুরবিপ্রবি: স্থানীয় কিছু যুবকের হামলায় গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার আনুমানিক রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বালির মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী মিঠু, জনি ও নিশান আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিশানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হামলার বর্ণনা দিয়ে আহত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপজিটে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় হঠাৎ তিনজন আরোহীসহ একটা মোটরসাইকেল আমাদের ধাক্কা দেয়। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম তারা হয়তো ভুলবশত ধাক্কা দিয়েছে। কিন্তু ধাক্কা দেয়ার পর তারাই আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং উচ্চবাচ্য শুরু করে। এ সময় তাদের কথাবার্তায় আমাদের মনে হয়েছে তারা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয় এবং পরের দিন রাতে আমরা যখন রাতের খাবার খেতে বালুর মাঠ যাই তখন আমাদের ওপর হামলা করে।

এদিকে হামলাকারীদের বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে গতকাল সকাল থেকেই ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া হামলাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

দাবির মধ্যে রয়েছেÑহামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতকরণ, সব সাধারণ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধকরণ, সব শিক্ষার্থীকে ভর্তির প্রথম মাসের মধ্যে আইডি কার্ড প্রদান করা এবং মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আমরা হামলার পরপরই আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম এবং তাদের বর্ণনা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেছি। আটককৃতরাই হামলাকারী কি না এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, আহতরা যদি তাদের হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করে তাহলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, হামলার ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালায় এবং দুজনকে আটক করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।