সম্পাদকীয়

স্থায়ীভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনই পদক্ষেপ নিন

অনেক আগে থেকেই এদেশে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও চলতি বছর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রথমে ঢাকায় ডেঙ্গু রোগ ব্যাপকহারে ছড়ালেও পরে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। অবশ্য সারা দেশে এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে এসেছে। তারপরও প্রতিদিনই নতুন রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এখন পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। নতুন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ভবিষ্যতে যাতে আর না দেখতে হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৮৯ হাজার’ শিরোনামে একটি খবর ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা ৮৯ হাজার জন ছাড়িয়েছে। রোগটি নিয়ন্ত্রণে এলেও গত বৃহস্পতিবার কিছুটা বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী। ফলে ডেঙ্গু নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তি এখনও ফেরেনি, তা স্পষ্ট। এজন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ সরকারি হিসাবই বলছে, চলতি বছর ২৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে।
অতীতে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের মতো শহরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এবার গ্রামাঞ্চলেও পরিস্থিতি বেশ নাজুক, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেক অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগও ছিল না। ডেঙ্গুর ধরনেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ২১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে যে ২৩৬ জন মারা গেছেন, তার মধ্যে আগস্ট ও জুলাই মাসে ছিল সবচেয়ে বেশি। সব মিলিয়ে এবার ডেঙ্গু রোগের ক্ষেত্রে বেশকিছু নতুন বিষয় সামনে এসেছে, যা ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে শিক্ষণীয়ও বটে।
ডেঙ্গু রোগে কারোর মৃত্যু হলে শুধু একটি স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটে তা নয়, পরিবারও পড়ে যায় গভীর সংকটে। আর বেঁচে থাকলে ফল ভোগ করতে হয় দীর্ঘদিন। আর্থিক ক্ষতি তো রয়েছেন। এজন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যদিও দায়িত্বশীলদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলতে শোনা গেছে। তাদের এ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গে চলতি বছরের নতুন বিষয়গুলো আমলে নিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম ও চিকিৎসাব্যবস্থা নতুন করে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে এ রোগের ভয়াবহতা আর না দেখতে হয়, সে ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..