বিশ্ব সংবাদ

স্পেন ও ফ্রান্সে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১০ লাখ

করোনাভাইরাস

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ইউরোপের দেশগুলোয় করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ (ওয়েভ) শুরু হওয়ায় সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয় বেড়েই চলছে। করোনা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনসহ কয়েকটি দেশ কিছু কিছু শহরে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। খবর: বিবিসি, ইউরো নিউজ।

পশ্চিম ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে স্পেনে শনাক্ত কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার দেশটি ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৯৭৩ জন রোগী শনাক্তের ও ১৫৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। ৩১ জানুয়ারি দেশটিতে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন স্পেনে মোট রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ পাঁচ হাজার ২৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া ও আর্জেন্টিনার পর কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ানো ষষ্ঠ দেশ হলো স্পেন।

এদিকে, পশ্চিম ইউরোপের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ফ্রান্সেও শনাক্ত কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কভিড-১৯ এর সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, স্পেনে অক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ পাঁচ হাজার ২৯৫ জন, আর ফ্রন্সে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৬৯ জনে, যা বৈশ্বিকভাবে সপ্তম অবস্থানে।

গত কয়েক মাস ধরে ইউরোপে নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। প্রাদুর্ভাবের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে আর হাসপাতালগুলো যেন রোগীতে উপচে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে, অঞ্চলটির সরকারগুলো নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। মহামারি শুরু হওয়ার প্রথম মাসেই স্পেনে করোনাভাইরাসের প্রকোপ তীব্র হয়ে ওঠে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শিশুদের বাইরে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল দেশটি।

আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার পর ইউরোপের অধিকাংশ দেশের মতো স্পেনও বিধিনিষেধ শিথিল করে। ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করে তুলতে পর্যটকদের ফেরানো দরকার বলে জোর দিতে থাকেন দেশটির রাজনীতিকরা। কিন্তু আগস্টের শেষ দিকে দৈনিক নতুন রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার জনের মতো করে বাড়তে শুরু করে। গত দুই সপ্তাহেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে, মঙ্গলবার এক দিনেই ২১৮ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৩৬৬ জন কভিড-১৯ জনিত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবেÑতা নিয়ে দেশটির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ দেখা দিয়েছে। বুধবার কট্টরপন্থি ভক্স পার্টি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজে বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। মহামারি মোকাবিলায় কীভাবে এগিয়ে যাওয়া হবে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের বিরোধ দেখা দিয়েছে।

রাজধানী মাদ্রিদে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবেÑতা নির্ধারণে গতকাল বৃহস্পতিবার আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক বসেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে করোনা ঠেকাতে ফ্রান্স অন্তত ৯টি শহরে রাত্রিকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। গত কয়েক দিনে জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সে দৈনিক আক্রান্তে সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..