সম্পাদকীয়

স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা করুক অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলো

প্রযুক্তিনির্ভরতা মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করেছে। ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্ক, বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য কেনাবেচা, অর্থ লেনদেন বা ই-কমার্স ক্রমেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা নতুন ধরনের এ বাণিজ্যে বিনিয়োগ করে সফলতা পেয়েছেন। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আমাজন ও চীনের আলিবাবা অন্যদের পথ দেখিয়েছে।

সম্ভাবনা বিবেচনায় আমাদের দেশেও ই-কমার্সে বিনিয়োগ করেছেন উদ্যোক্তারা। একসময় অভিজাত ও ধনাঢ্যরা ই-কমার্স সাইটে অনলাইনে পণ্য কিনতেন। সাধারণ মানুষও ধীরে ধীরে এতে সম্পৃক্ত হতে শুরু করছে। মহামারি কভিডকালে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সংক্রমণ এড়াতে পশুরহাট থেকে না কিনে অনলাইনে পশু কিনবেন অনেকে।

বলা হয়ে থাকে, অনলাইনে কেনাকাটায় কোনো মধ্যস্বত্বভোগী নেই বলে গ্রাহকের প্রতারিত কিংবা ভোগান্তির শিকার হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। আমাদের দেশে কয়েক বছর আগে অনলাইনে কেনাকাটা শুরু হলেও গ্রাহকের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক নয়। ক্রয়াদেশ দেওয়া পণ্য যথাসময়ে সরবরাহ না করা এবং মানহীন পণ্য সরবরাহের বিস্তর অভিযোগ এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গ্রাহকের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা কমই দেখা যায়। কেউ বলেন, অখ্যাত ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কিন্তু নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকেই পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহক।

গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ইভ্যালিতে পণ্য কিনে গ্রাহকের ভোগান্তি ও হয়রানি চরমে’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনেকের মনোযোগ কাড়বে। এতে বলা হয়েছে, সাত থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্রয়াদেশ দেওয়ার পর মাসের পর মাস কেটে যায়, কিন্তু নির্ধারিত পণ্য পান না গ্রাহক। অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ই-কমার্স বা অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও বাংলাদেশে এখনও এ খাত গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ক্রয়াদেশ অনুযায়ী মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ না করা, বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব, সরবরাহে দেরি করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে।

অনলাইন মার্কেট প্লেস ইভ্যালি কোনো বিবেচনায়ই অখ্যাত কিংবা আনাড়ি নয়। প্রচারে, প্রভাবে ও বিপণনে বরং এটিকে দেশসেরা অনলাইন শপ বলা চলে। সেই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে গ্রাহকের মন্তব্যÑ‘কী অর্ডার দিয়েছিলাম, কবে দিয়েছিলাম; পণ্য হাতে পেতে পেতে সেটা ভুলে যাওয়ার উপক্রম।’ গ্রাহকদের সঙ্গে দেশসেরা অনলাইন শপের এমন আচরণ দুঃখজনক। ফ্যানপেজে সঠিক সময়ে পণ্য পাওয়া নিয়ে মন্তব্য থাকলেও ভোগান্তির শিকার কারও পোস্ট অনুমোদন হয় না।

কভিডকালে ক্রয়াদেশ বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে বিঘœ ঘটতে পারে। কিন্তু সেটির সীমা আছে। গ্রাহকদের আস্থায় রেখেই ই-কমার্স উদ্যোক্তারা শুধু খ্যাতি অর্জন করেননি, তাদের ব্যবসাও ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। ভিন্ন পথে হাঁটলে ঝরে পড়তে হবে। ইভ্যালিসহ অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলো সক্ষমতা অর্জন করে স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..