সম্পাদকীয়

স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হোক ভোটার তালিকা হালনাগাদ

নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিতে জাতীয় পরিচয়পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল ভোট দেওয়া নয়, একজন নাগরিকের জন্য অতি অপরিহার্য প্রমাণপত্র। ভোটার তালিকা হালনাগাদের মধ্যেমে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। উপযুক্ত নাগরিকদের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্তকরণ ও তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বলে গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে আমরা জানতে পেরেছি। ভোটার তালিকা প্রণয়ন অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। সুতরাং হালনাগাদ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। পাশাপাশি বর্তমানে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত যেসব মানুষ বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তারা যাতে কোনোভাবেই এ তালিকাভুক্ত না হনÑতা নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

কোনো নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে তার স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাসরত ঠিকানায় নিবন্ধন করা এবং ওই ঠিকানা অনুযায়ী জাতীয় পরিচিতি নম্বর দেওয়া। আইন অনুসারে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত সব নাগরিক, নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত সাপেক্ষে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার অধিকারী।

রাষ্ট্রের কাজ যেমন সব নাগরিকের পরিচয়পত্র দেওয়া, তেমনই নাগরিকদেরও উচিত যথানিয়মে নিবন্ধিত হয়ে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করা। আমাদের দেশে নির্ভুল ভোটার তালিকা না হওয়ায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার দৃষ্টান্ত আছে। তাই রাষ্ট্র-নাগরিক উভয়পক্ষের এ বিষয়ে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন ও যতœবান হওয়া জরুরি। কোনো পক্ষের দায়িত্বহীনতায় কারও নাম বাদ যেতে পারে আবার কারও নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত হতে পারে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘৯০ লাখের বেশি নাগরিক যুক্ত হচ্ছে ভোটার তালিকায়’ প্রতিবেদন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলেই ধারণা। খবরে বলা হয়, ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে এবার ৯০ লাখেরও বেশি নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী (২০০১-০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জš§) এসব নাগরিকের ছবি, চোখের আইরিস ও ১০ আঙুলের ছাপসহ নিবন্ধন কাজ ৩০ নভেম্বর শেষ হয়েছে।

আমরা আশা করি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজ যথানিয়মে চলমান থাকবে। কোনো নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য দেননি এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও কেউ এমন কাজে জেনেশুনে সহায়তা করেননি।

দেশের সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নির্ভুল, নিখুঁত পরিচয়পত্র তথ্যভাণ্ডারের প্রয়োজনীতা অনস্বীকার্য। এতে কোনো ভুল কিংবা জালিয়াতি কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতায় জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্যভাণ্ডার নির্ভুল ও নিখুঁত হবেÑএটিই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..