দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

স্বচ্ছতা, আস্থা অর্জনে অটোমেশন ছাড়া পথ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির জন্য সহজ পদ্ধতি স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও জনগণের ভেতর আস্থা অর্জন করা। সেটি অর্জন করতে হলে অটোমেশন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ দেখি না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। গতকাল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনলাইনে ভ্রমণকর পদ্ধতির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সোনালী ব্যাংকের সহায়তায় এনবিআর এ পদ্ধতি চালু করে।

চেয়ারম্যান বলেন, কথা কম বলে বেশি রাজস্ব আদায় করতে চাই। অনলাইনে ভ্রমণকর আদায় পদ্ধতি চালু রাজস্ব আদায়ের একটি নতুন মাত্রা যোগ হলো। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। সে সুযোগ, সম্ভাবনাগুলো বৃদ্ধি করার জন্য যে সহজ পদ্ধতি সেটি হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের ভেতরে সে বিষয়ে আস্থা অর্জন করা। তারা যেন জানতে পারে যে তারা যে রাজস্ব দিচ্ছে তা সঠিকভাবে সঠিক জায়গায় যাচ্ছে। সেটি অর্জন করতে হলে বিকল্প কোনো পথ দেখি না অটোমেশন ছাড়া। অটোমেশনের মাধ্যমে একমাত্র সম্ভব স্বচ্ছভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করে স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজস্ব আদায় করা।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় বলা হয় আমার লোক কম কাজ করব কীভাবে। খেয়াল করতে হবে। সারাবিশ্বে এখন মানুষ কমে যাবে এটাই স্বাভাবিক। সেজন্য সারাবিশ্বে চেষ্টা করছে কম মানুষ দিয়ে বেশি কাজ করার। প্রযুক্তির সহায়তা নিলে কম মানুষ নিয়ে কাজ করলে কাজের পরিমাণও বাড়বে। সেজন্য অটোমেশন। কম মানুষ দিয়ে কীভাবে বেশি কাজ করা যায় আমাদের সেদিকে যেতে হবে। সেজন্য আমরা যত দ্রুত সম্ভব এনবিআরে অটোমেশনের দিকে যাব। অনলাইনে ভ্রমণকর পরিশোধ পদ্ধতি চালু করায় তিনি সোনালী ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকিং বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষ বেশি ভ্রমণ করেন। অনলাইনে ভ্রমণকর দিতে পারলে তাদের দুর্ভোগ কমে যাবে। মানুষ যাতে জানে সেজন্য প্রচার ও মনিটরিং করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে অনলাইনে ভ্রমণকর পদ্ধতি ভূমিকা রাখবে। এনবিআরের অটোমেশন রাজস্ব আদায়ের জন্য খুবই জরুরি।

মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী বলেন, অনলাইন পদ্ধতি চালু করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে ভ্রমণকরের মধ্যে বেশিরভাগ কর আসে আকাশপথে। আকাশপথে অনলাইনে কর আদায় যাতে বিলম্বিত না হয়Ñসেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। আকাশপথে আদায় করা ভ্রমণকরের বেশিরভাগ একটা শ্রেণির পকেটে থাকে, আদায় হয় না, সরকার তাদের পেছনে ঘুরতে হয়।

ভ্রমণকরে মনিটরিং বা মানুষের স্পর্শ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন ডেটাবেজের সঙ্গে কাস্টমসকে যুক্ত করে তাদের ডেটা প্রদান করা যেতে পারে। তিনি বলেন, কোনো খাত বছরে কত রাজস্ব অব্যাহতি পাচ্ছে, সে অব্যাহতি কোন দিকে যাচ্ছেÑতা বিশ্লেষণের সময় এসেছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষা ও কত অব্যাহতি পেয়েছেÑতা প্রকাশ করা উচিত।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ৫১টি সার্ভিসের মধ্যে ৩৭টিতে ব্যাংক কোনো চার্জ নেয় না। ভ্রমণকরের ক্ষেত্রেও কোনো সার্ভিস চার্জ নেই। যে ১০ টাকা চার্জ হলো কার্ড বা অনলাইন চার্জ। এনবিআর রাষ্ট্রের যে অর্থ জোগান দেয়, সোনালী ব্যাংক অনেক ক্ষেত্রে কোনো চার্জ না নিয়েই এ অর্থ জোগানে সহযোগিতা করে।

তিনি বলেন, গত বছর সোনালী ব্যাংক বিনা চার্জে সরকারের সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। সরকারের ডিজিটালাইজেশনের উন্নয়ন প্রকল্পে এ ব্যাংক কাজ করছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চার্জ ছাড়াই ৯৪ লাখ কোটি টাকার এলসি খুলেছি, যাতে চার্জ হলো পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এ ব্যাংক সবসময় এনবিআরের সঙ্গে থাকবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর সদস্য (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবা) কানন কুমার রায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..