সম্পাদকীয়

স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে কমবে পিডিবির লোকসান

স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে কমবে পিডিবির লোকসান

‘লোকসানের বোঝা কমাতে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তাতে সাধারণ মানুষ মাত্রেই হতাশ হবেন। খবরে বলা হয়, গত অর্থবছর রেকর্ড আট হাজার কোটি ১৪১ টাকা লোকসান করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বেশি দামে কিনে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করায় এ লোকসান দিতে হয়েছে। লোকসানের বোঝা কমাতে বাল্ক (পাইকারি) মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। গত সপ্তাহে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণকারী জাতীয় সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) প্রস্তাবটি জমা দেওয়া হয়েছে। 

খবরে আরও বলা হয়, পাইকারি দাম বাড়লে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ও কোম্পানিগুলো লোকসানে পড়বে। এজন্য গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহকৃত খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো এবং আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন দাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থ লোকসান দিচ্ছে বলেই অভিযোগ। তীব্র বিদ্যুৎ সংকট মেটাতে তেলে চালিত ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হয়েছিল, এটা সবারই জানা। জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এসব কেন্দ্র বিদ্যুৎ সংকট মিটিয়েছে অনেকখানি; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতেও কিছুটা সহায়ক হয়েছে, কিন্তু এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে দিতে হচ্ছে বড় মূল্য।

বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর ও আগামী অর্থবছর বিদ্যুৎ খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি বিবেচনা করে মূল্যহার সমন্বয় করবে বিইআরসি। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে, বিইআরসিতে প্রস্তাব পাঠানো কেবলই আনুষ্ঠানিকতা, সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে আগেই। বিইআরসি, পিডিবি ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে গত অর্থবছরে বিদ্যুতে ভর্তুকি ও লোকসান বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। ওই সভায় পিডিবিকে বিদ্যুতের পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।

অনিয়ম দুর্নীতির কারণে পিডিবি লোকসান করছে, বিশেষজ্ঞদের এ অভিযোগ নতুন নয়। নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতার দায়ভার সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সঙ্গত নয়। লাভজনক করতে অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে লোকসান কমিয়ে আনতে পারে পিডিবি।

বিইআরসির উচিত হবে পিডিবির দেওয়া প্রস্তাবের ওপর সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিদের নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা এবং সেটিকে প্রাধান্য দিয়েই বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা। একতরফা প্রস্তাবে সায় দিয়ে দাম বাড়ানো হলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে লোকসান চলতেই থাকবে। আমরা মনে করি, লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো সর্বশেষ পদ্ধতি। লোকসান কমানোর অন্য পদ্ধতিগুলো বিফল হলেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যেতে পারে।

সর্বশেষ..