সম্পাদকীয়

স্বর্ণ আমদানির প্রকৃত চিত্র অনুসন্ধান করা হোক

দেশে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আসে, এটি নতুন নয়। বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর কিংবা বিভিন্ন চোরাইপথে আসা স্বর্ণ জব্দ হওয়ার খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে আসছে। কখনও তা ভরি (তোলা) বা কেজি নয়, মণকেও ছাড়িয়ে গেছে। কতভাবে কত রুটে যে স্বর্ণ আসছে! কৌশল ও রুট পরিবর্তনের মাধ্যমে চোরাচালান হচ্ছে। বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন সামগ্রীর ভেতরে করে স্বর্ণ আসছে। মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশ স্বর্ণ চোরাচালানিদের নিরাপদ রুট। অথচ দেশে বৈধ পথে এক ভরি স্বর্ণও আমদানি হয়নি। তা সত্ত্বেও স্বর্ণ আমদানিতে ‘বাংলাদেশ চতুর্থ’ এমনই উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘কার্নেগি ইনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’-এর গবেষণায়। মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু এক বছরেই (২০১৬ সালে) সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে ৪২ হাজার ৮০৮ কেজি (৩৬ লাখ ৭১ হাজার ৩৫৫ ভরি) স্বর্ণ। ওই বছর আরব আমিরাত থেকে স্বর্ণ আমদানিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। তবে এ আমদানির বৈধ কোনো প্রমাণ নেই। তাই অবৈধ পথে এ আমদানি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এর গন্তব্য সম্পর্কে ধারণা নেই সংশ্লিষ্টদের।

“দুবাই’স রোল ইন ফ্যাসিলিট্যাটিং করাপশন অ্যান্ড গ্লোবাল ইলিসিট ফিন্যান্সিয়াল ফ্লোস” শীর্ষক এ প্রতিবেদনে দুবাই থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কী পরিমাণ স্বর্ণ বৈধ বা অবৈধভাবে যাচ্ছে, তা তুলে ধরা হয়। প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থ পাচারে স্বর্ণের ব্যবহার নিয়ে মূলত প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘আরব আমিরাত থেকে স্বর্ণ আমদানিতে চতুর্থ বাংলাদেশ! শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকের চোখ কপালে উঠবে বলেই ধারণা।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে আমদানির বিধান রেখে ২০১৮ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা’ অনুমোদিত হয়। নীতিমালা প্রণয়নের আগে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতিসহ (বাজুস) অংশীজনদের মত নেওয়া হয়। আরব আমিরাত থেকে স্বর্ণ আমদানির বিষয়টি অস্বীকার করছেন বাজুস সাধারণ সম্পাদক। তার প্রতিষ্ঠান চলতি অর্থবছর প্রথম স্বর্ণ আমদানি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরব আমিরাত থেকে যদি অবৈধভাবে স্বর্ণ এসে থাকে সে তথ্য আমাদের জানা নেই।’

অর্থ পাচার নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করা ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) বলেছে, আরব আমিরাত থেকে স্বর্ণ আমদানির তথ্য নিয়ে সন্দেহ নেই।

বাজুসসহ অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরই স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা প্রণীত হয়। বাজুস সদস্যদের চোরাচালানের মাধ্যমে কিংবা অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করার কথা নয়। তারা যেহেতু দাবিও করছেন পাচারে জড়িত নন, তাই অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির কোনো তথ্য থাকলে সংগঠনটি স্বচ্ছতার সঙ্গে রাষ্ট্রকে সহায়তা করবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..