প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্বল্পদরের প্রতি ঝোঁক:চার কোম্পানির শেয়ার ফিরেছে অভিহিত মূল্যে

 

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: অবশেষে অভিহিত মূল্যে (ফেস ভ্যালু) ফিরেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চারটি কোম্পানি। এগুলো হচ্ছে: ন্যাশনাল ব্যাংক, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ডেল্টা স্পিনার্স ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক। দীর্ঘদিন এ কোম্পানিগুলোর শেয়ার অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করছিল। সম্প্রতি কম দরের শেয়ারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় অভিহিত দরের নিচে থাকা এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, যেসব শেয়ারের দর কম, সেই শেয়ারের বিনিয়োগ কিছুটা হলেও ঝুঁকিমুক্ত। কারণ এসব শেয়ারে লোকসানের আশঙ্কা কম থাকে। এসব শেয়ারের দর যেমন অল্প করে বাড়ে, কমার বেলায়ও সেই একই নীতি দেখা যায়। ফলে যে কোনো সময় এসব শেয়ার বিক্রি করে বের হওয়ার সুযোগ থাকে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এখনও অধিকাংশ কোম্পানিতে বিনিয়োগের পরিবেশ রয়েছে এ কথা ঠিক। তবে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে সব সময়ই সুযোগ সন্ধানীরা এখান থেকে সুবিধা আদায় করে নিতে প্রস্তুত থাকে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করা। কারণ পুঁজি যার, তাকেই নিজের পুঁজি রক্ষা করতে হবে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দিনশেষে দর দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩০ টাকা। একদিনের ব্যবধানে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ারদর বেড়েছে সাত দশমিক ২৯ শতাংশ। দিনটিতে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫০ টাকা থেকে ৯ দশমিক ৮০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। সারা দিনে কোম্পানিটির মোট ২২ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। চলতি বছর কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১৩ দশমিক ২০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ছিল সাত দশমিক ৩০ টাকা। একইভাবে গতকাল অভিহিত দরে ফেরা ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারদর গত জুলাই মাসে ছিল আট টাকা। গতকাল মঙ্গলবার দিনশেষে ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের একদিনে দর বেড়েছে পাঁচ দশমিক শূন্য শতাংশ। সারাদিনে ব্যাংকটির মোট ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল সাত দশমিক ৮০ টাকা। সর্বোচ্চ গতকালের মূল্য ছিল ১০ দশমিক ৫০ টাকা। সবশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে দশমিক ১৯ টাকা। যা আগে ছিল দশমিক ২১ টাকা।

এদিকে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক নামের কোম্পানিটির বছরের সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৩০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। সারাদিনে কোম্পানিটির মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। সবর্শেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে তাদের প্রতিটি শেয়ারে লোকসান দাঁড়িয়েছে ০ দশমিক ৬৩ টাকা। আগের বছরের একই সময় লোকসানের পরিমাণ ছিল এক দশমিক শূন্য সাত টাকা। আর বস্ত্র খাতের ডেল্টা স্পিনার্স কোম্পানির শেয়ার গতকাল ১০ দশমিক ৩০ টাকায় লেনদেন হয়। সারাদিনে কোম্পানিটির মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল পাঁচ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ বছর কোম্পানিটির সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ১২ দশমিক ২০ টাকা এবং সর্বনি¤œ ছিল সাত দশমিক ৫০ টাকা।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার এখন স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যে কারণে বাজারে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। যারা দীর্ঘদিন বাজারবিমুখ ছিলেন, তারাও এখন ফিরে আসছেন। যার প্রভাব পড়ছে শেয়ারদরে।’