প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্বস্তি ফিরুক কাঁচাবাজারে

গত কয়েক দিনে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোয় প্রকাশিত ‘বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের ঝাঁজ’ কিংবা ‘কাঁচামরিচের ঝালে অতিষ্ঠ ক্রেতারা’ ধরনের শিরোনাম দেখে বলা যায় ‘অভ্যস্ত’ হয়ে উঠেছেন পাঠকরা। যারা নিজে গিয়ে কাঁচাবাজার সারেন, তাদের গায়ে এর উত্তাপ অবশ্য লেগেছে আগেই। সহযোগী একটি দৈনিক দেখিয়েছে, কীভাবে গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে রাজধানীবাসীর। আর এ মুহূর্তে রাজধানীর অধিবাসীসহ দেশবাসীরই বোধকরি যন্ত্রণার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঁচাবাজার। সমস্যা হলো, চাহিদা হ্রাস কিংবা সরবরাহ বৃদ্ধি ছাড়া এ বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ খুব কম। লক্ষণীয়, চলতি বছরের শুরু থেকেই খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। কারণটা অনুমেয়। দুই দফা বন্যায় ধান উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি না পেলেই বরং তাকে অস্বাভাবিক মনে হতো। তবে প্রায় সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে নিছক প্রাকৃতিক কারণ যুক্ত, এটা হলফ করে বলা যাবে না। নইলে কিছু বড় চালকল মালিকের বিরুদ্ধে অবৈধ মজুতদারির অভিযোগ উঠত না। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে সরকার আমদানি উদারীকরণসহ কিছু পদক্ষেপ নিলে চালের দামে খানিকটা পতনও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

সমস্যা হলো, ধান-চাল-আটার বাজার থেকে অনেকটাই পৃথক কাঁচাবাজার অর্থনীতি। প্রথমত খেয়াল করা দরকার, চালের দামের প্রভাব সরাসরি পড়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে এবং এটা এতই ব্যাপক যে, তা একপর্যায়ে খাদ্য-বহিভর্‚ত মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে। এদিক থেকে দেখলে চালের ভ‚মিকাটা আমাদের অর্থনীতিতে বৃহৎ হলেও এর ক্রিয়া অনেকটা সরলরৈখিক। অপরদিকে কাঁচাবাজার অর্থনীতির ক্রিয়া-পদ্ধতি সরলরৈখিক নয়; বরং কুটিল প্রকৃতির। চালের মতো খাদ্যশস্য যেভাবে সংরক্ষণ করা যায়, শাকসবজির বেলায় কাজটি তেমন নয়। সংরক্ষণ করা গেলেও শাকসবজির বেলায় কাজটি ব্যাপকভাবে সম্ভব নয়। ফলে কয়েকটি ব্যতিক্রম বাদে শাকসবজিতে মজুতদারির অভিযোগ তোলা কঠিন। অধিক মুনাফার আশায় কোনো চক্র যদি মজুতদারি করেও, তাদের পক্ষে অব্যাহতভাবে কাজটি করা সম্ভব হবে না বলেই ধারণা। স্থানীয় অর্থনীতিতে কাঁচাবাজারে বাড়তি দাম কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে। এটি কি স্বাভাবিক কারণে ঘটছে, নাকি এর পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে, তা দ্রæতই খতিয়ে দেখা উচিত। সেক্ষেত্রে স্মর্তব্য, চলতি বছরের বন্যায় কেবল ধান উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নয়। দ্বিতীয় কথা, ধানের যেমন প্রতিস্থাপক রয়েছে গম-কাঁচামরিচ বা পেঁয়াজের তেমন নেই। ফলে এ যুক্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন, কাঁচামরিচের দাম বৃদ্ধিকালে শুকনো মরিচ পরিভোগই এর দাম নিয়ন্ত্রণের উপায়। পেঁয়াজের বেলায়ও বলা যায়, ভারতীয় পেঁয়াজ দেশি পেঁয়াজের ঠিক প্রতিস্থাপক নয়। তবে পেঁয়াজের বেলায় যেহেতু আমরা আমদানিনির্ভর, সেহেতু চীন-ভারতে এর দাম বৃদ্ধি পেলে তার একটা প্রতিফলন মিলবেই স্থানীয় বাজারে। এখানে উল্লেখ করা দরকার, কয়েক মাস আগে ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়ে বলে শোনা গিয়েছিল। এরই মধ্যে সেখানে তা নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও আমাদের বাজারে পূর্ববর্তী দামের প্রভাব এখনও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে যেমন-তেমন হলেও পেঁয়াজের ঝাঁজের একটা ব্যাখ্যা মেলে। তবু কোনো সূত্রই পাওয়া যায় না, কেন বেড়ে থিতু হলো কাঁচামরিচের দাম। এ অবস্থায় স্বস্তি ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে কাঁচাবাজারে সৃষ্ট সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণ অনুসন্ধান এবং সেটি অনুসরণপূর্বক দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।