সম্পাদকীয়

স্বার্থের সংঘাতে জড়িতদের বিসিবি থেকে সরানো হোক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) স্বার্থের সংঘাত অনেকটা ওপেন সিক্রেট। যৌক্তিক দাবিতে দেশের ক্রিকেটারদের ধর্মঘট; এরপর ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ এবং নিঃশর্তভাবে খেলোয়াড়দের দাবি মেনে নেওয়ায় অচলাবস্থার আপাত সমাধান হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিশ্বক্রিকেটে দেশের বড় তারকা সাকিব আল হাসানের ওপর ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির নিষেধাজ্ঞা সেটি নতুন করে সামনে এনেছে। স্বার্থের দ্বন্দ্ব হয় এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত আছেন বিসিবি পরিচালকরা। বিসিবি সভাপতি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বেক্সিমকো গ্রুপভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরও পরিচালক। এই বেক্সিমকো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল ঢাকা ডায়নামাইটসের স্বত্বাধিকারী। বেক্সিমকোর আরেক কর্মকর্তা ইসমাইল হায়দার মল্লিকও বিসিবির পরিচালক। এমন প্রভাবশালী পরিচালক টুর্নামেন্ট বা লিগের কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হলে স্বার্থের সংঘাত হতেই পারে। খালেদ মাহমুদ সুজন একই সঙ্গে বিসিবির পরিচালক, তিন-চারটি দলের কোচ, খেলোয়াড়দের সংগঠন কোয়াবের সহসভাপতি, বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার, নির্বাচক, বিবিসি গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান। একই ব্যক্তির এত দায়িত্বে থাকার দৃষ্টান্ত আর কোনো দেশে আছে কি না, আমাদের জানা নেই। তবে এটি বলা যায়, ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ঝড় স্বার্থের সংঘাতেরই অনিবার্য পরিণতি।

গত ২২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি একপর্যায়ে স্বীকার করেন, বিসিবির পরিচালক হয়েও জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে খালেদ মাহমুদের বেতন নেওয়া, ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন দলের কোচিং করানো স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করছে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সাক্ষাৎকার পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। তিনিও বলেছেন, ‘বিসিবিতে স্বার্থের সংঘাত রয়েছে এবং অভিভাবকের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। তিনি আরও বলেন, সাকিবের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে গভীর একটি সমন্বয় ছিল। বিসিবি জানত সাকিবকে হয়তো নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

বিসিবির সাবেক এই সভাপতির ধারণার সঙ্গে পাঠকরাও একমত হবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সেটি তুলেও ধরছেন। খেলোয়াড়দের মুখপাত্র হিসেবে দাবিগুলো তুলে ধরছেন সাকিব। আর তার ওপর নিষেধাজ্ঞায় খোদ বিসিবি সভাপতি যেন খুশি! তিনি যে সংবাদ সম্মেলনে উত্তেজিত হয়ে বলেই ফেলেছেনÑআপনারা অপেক্ষা করুন।

কিছু ব্যক্তির স্বার্থের সংঘাতে দেশের ক্রিকেট আক্রান্ত। এটি চলতে থাকলে ক্রিকেট আমাদের অর্জন ধরে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কোনো লুকোচুরি না করে স্বার্থের সংঘাতে জড়িতদের উচিত স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে সরে যাওয়া। কেউ স্বেচ্ছায় সরতে না চাইলে রাষ্ট্রের উচিত সরিয়ে দেওয়া। ক্রিকেটের উন্নতির জন্য গুটিকয় স্বার্থান্বেষীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..