প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্বাস্থ্যবিধি ও কভিড টিকাদান সম্প্রসারণে জোর দিন

কভিডে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক দিনেই বাড়ল ৫১ শতাংশের বেশি। দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ফের পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে মর্মে শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। দেশের কভিড সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত কভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৭১১ জন।

সাম্প্রতিক সময়ে কভিডের সংক্রমণ বৃদ্ধি জনমনে আতঙ্কের সঞ্চার করেছে। অন্য দেশের চেয়ে আমাদের দেশে কভিডের সংক্রমণ তত ভয়াবহ নয়, এই আত্মতৃপ্তি কমবেশি সবার মধ্যেই ছিল। ফলে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে কিছুটা শৈথিল্য রয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি আদৌ স্বস্তিকর নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যকেও পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না। সংস্থাটি কেবল স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা ব্যক্তির তথ্য দিতে পেরেছে। কিন্তু সন্দেহ নেই, বড় অংশই হাসপাতালে আসেনি। তাই কভিড সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য উদ্বেগজনক।   

শুধু ‘মাস্ক নেই, সেবা নেই’ কর্মসূচি গ্রহণ করলেই সুফল আসবে না। নগণ্যসংখ্যক মানুষ সেবা নিতে সরকারি অফিসে যায়। কেবল তারা সতর্ক থাকলে সংক্রমণ কমবে না, সবাইকে মাস্ক ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে।

গোটা বিশ্ব এখন সার্সের নানা ধরনে (ভ্যারিয়েন্ট) পর্যুদস্ত। নতুন ধরনের ভাইরাস ওমিক্রন আগের সব ধরনের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক। অর্থাৎ একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে এটি। এমনকি দু-তিন ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তিরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। ওমিক্রন শিশু-কিশোর-তরুণদের মধ্যেও ব্যাপকহারে দেখা যাচ্ছে। একসময় বলা হতো তরুণদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি, তারা আক্রান্ত হবে না। ওমিক্রন সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ওমিক্রনের প্রভাবে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে মূলত টিকা না পাওয়া ব্যক্তিই দায়ী, এ ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যে কেউ সংক্রমণের শিকার হবেন, অন্যের শরীরে ভাইরাসও ছড়াবেন।

আমাদের দেশে এখনও বহু মানুষ টিকা পাননি। এ অবস্থায় ওমিক্রন যত বেশি ছড়াবে, তাদের বিপদ বাড়বে। যিনি নিজে অসচেতনতার কারণে সংক্রমিত হলেন, দেখা গেল তার হয়তো নিজের কিছুই হলো না, কিন্তু তার কারণে আরও পাঁচজন ক্ষতিগ্রস্ত হলেন।

অনেকে মনে করেন ওমিক্রন এত বিপজ্জনক নয়। সে কারণে বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ঢিলেমি দেখাচ্ছেন। কিন্তু সংক্রমণের ব্যাপকতার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ যখন আক্রান্ত হবেন, তখন স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ পড়বে। যে কোনো ধরনের করোনাভাইরাসকে সবচেয়ে সফলভাবে প্রতিহত করতে যথাবিধি মাস্ক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। টিকা দেয়ার হার বাড়ানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, মাস্ক ব্যবহারও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। টিকা নিয়ে নির্ভার থাকার সুযোগ নেই, টিকা নিলেও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কভিডের কারণে দেশকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়বে, তা মোকাবিলা করার সক্ষমতা আছে কি না, তা ভেবে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্তত সবার জন্য টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।