দিনের খবর শেষ পাতা

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দুই মার্কেটে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার দায়ে ১৭ জনকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া রাজধানীর নিউমার্কেটে মাস্ক না পরায় দোকানি ও ক্রেতাদের ছয় হাজার ৫০ টাকা জরিমানা করা হায়েছে।

গতকাল দুপুর ১২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে শপিংমলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের নানা অঙ্কে জরিমানা করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা কিংবা সঠিক নিয়মে মাস্ক না পরায় তাদের জরিমানা গুনতে হয়।

অভিযান শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ রফিকুল হক বলেন, ‘১৭ জনকে বিভিন্ন অঙ্কে মোট সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

এ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা রিয়াদ নামের এক ব্যক্তিকে মাস্ক না পরায় ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রিয়াদ বলেন, মাস্ক ছিঁড়ে যাওয়ায় খুলে গিয়েছিল। টাকার অঙ্কটা যদিও বেশি, তবু আমার মনে হয় ম্যাজিস্ট্রেট যা ভালো মনে করেছেন, তাই ঠিক আছে। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি।’

শপিংমলের দ্বিতীয় তলায় ইমরান ফ্যাশন নামের একটি কাপড়ের দোকানের কর্মী আলী আসগরকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। তিনি জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে খানিকক্ষণের জন্য মাস্ক খুলে রেখেছিলেন।

দ্বিতীয় তলায় রোকসানা নামের একজন ক্রেতাকে সঠিক নিয়মে মাস্ক না পরায় ২০০ টাকা জরিমানা করা হলে তিনি জানান, গরমে নিঃশ্বাস নিতে না পারায় মাস্ক নিচে নামিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

এদিকে অভিযানাকলে একটু পরপরই বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ রফিকুল হক সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবার জন্য আবশ্যক। শপিংমলের বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়পক্ষকে মাস্ক পরিধান করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সব নিয়ম মেনে চলতে হবে। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। বিক্রেতারা মাস্ক ছাড়া দোকানে কাজ করছেন।

এদিকে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি নাÑতা যাচাইয়ে অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভ্রাম্যমাণ

আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাস জানান, নিউমার্কেট এলাকায় ২১টি মামলা করা হয়েছে। ছয় হাজার ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে দুপুর সোয়া ১২টায় মো. আব্দুল আলীম নামের এক ব্যক্তি মাস্ক ছাড়া মার্কেটে প্রবেশ করার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ১০০ টাকা জরিমানা করেন।

জরিমানার পর আব্দুল আলীম বলেন, একটু আগে মাস্ক ছিল, বাতাসে উড়ে গেছে। এখন জরিমানা গুনতে হয়েছে। একই সময় সোহেল আহমেদ নামের আরেকজনকেও মাস্ক না থাকায় ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় সোহেল বলেন, মাস্ক ময়লা হয়ে গেছিল, তাই এটা ফেলে আরেকটা কিনতে গিয়েছিলাম, এমন সময় ম্যাজিস্ট্রেট মাস্ক ছাড়া দেখে জরিমানা করেছেন।

পরে এক নম্বর গেট-সংলগ্ন এশিয়ান জুয়েলার্সের বিক্রেতা গোলাম মোস্তফাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন আদালত। এ সময় কেন মাস্ক পরেননি জানতে চাইলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, দোকানে লোকজন কম ছিল। তাই মাস্ক ছাড়া বসেছিলাম। একইভাবে মার্কেটের নানা অংশে অভিযানের সময় ক্রেতা, দোকানের বিক্রয়কর্মীদের জরিমানা করা হয়। একটি দোকানে ক্রেতা ও কর্মীর মুখে মাস্ক না থাকায় দোকানিকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সঞ্জীব দাস বলেন, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য উৎসাহিত করা। ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু চলবে, তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে সবাইকে। জনগণ যদি সচেতন না হয় তাহলে অভিযান পরিচালনা করে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। সেজন্য যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তাদের অর্থদণ্ড দিয়ে আমরা মেসেজ দিতে চাচ্ছি, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাইরে এলে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..