মত-বিশ্লেষণ

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ফিরতে হবে স্বাভাবিক জীবনে

আবদুল রফিক তার শিক্ষকতার পেশায়, লাবণ্য তার ব্যবসায়, হারুন অর রশিদ তার চাকরিতে এবং আমি নিজে আমার পড়াশোনায় ভালোই ছিলাম। খুব পরিপাটি, সাজানো-গোছানো ও রুটিনমাফিক চলছিল আমাদের সবার জীবন। সবাই সবার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ফাঁকা সময়ই থাকত না আমাদের। হঠাৎ এই স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন ঘটে। করোনার করাল গ্রাসে শেষ হয়ে যায় আমাদের স্বাভাবিক জীবন। মহামারি হয়ে আমাদের জীবনে আসে করোনাভাইরাস। গৃহবন্দি করে ফেলে বিশ্বের মানুষদের। প্রথমে চীনে উৎপত্তি হলেও এখন করোনাভাইরাস তাণ্ডব চালাচ্ছে সারা বিশ্বে। এ যেন করোনাভাইরাসের রাজত্ব চলছে। উদ্বেগ বেশি আমাদের বাংলাদেশে। আমাদের দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় এক হাজার ১১৬ জন। বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। আমাদের দেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি। প্রতিনিয়ত বেড়েই যাচ্ছে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ৩৬৫ জন, যা ইতালিকে ছাড়িয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৫৫ হাজার ১১৩ জন। প্রতিদিনই যেন নতুন করে মৃত্যুর পাহাড় তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক স্বার্থে সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাতীত। দেশে করোনা পরিস্থিতির জন্য বেকারত্ব বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। সরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে করোনার আগে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০ দশমিক চার শতাংশ আর এখন করোনাভাইরাসের কারণে তা হয়েছে ২৯ দশমিক চার শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে দেশেকে ও দেশের মানুষের রক্ষা করতে হলে কর্মসংস্থানে ফিরে যাওয়া ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই। সবাই ফিরতে শুরু করেছে তাদের আগের জীবনে। রাজধানী ঢাকাও ফিরে পেতে শুরু করেছে তার স্বাভাবিক চিত্র। তবে এখন চিত্রটি একটু ভিন্ন। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় প্রায় সবার মুখে রংবেরঙের মাস্ক আর হ্যান্ড গ্লাভস। আমাদের কিছু করার নেই, শুধু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই একমাত্র ভরসা। দেশের ও পরিবারের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে ফিরতে হবে কর্মস্থলে। দেশে ও সমাজে আমার একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তাই একজনকে অপরজনের চাহিদা মেটাতে হলে আগের জীবনে যেতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কবে করোনা শেষ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দুই বছর ব্যাপ্তিও হতে পারে। তাহলে ঘরে বসে থাকলে কি আমাদের চলবে? বরং করোনাকে সঙ্গী করেই আমাদের জীবন চালাতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে কঠোরভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। কর্মস্থলে থাকবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জাম। একটু চেষ্টা করলেই আমরা নিজেরা ভালো থাকতে পারব আর পরিবার ও দেশকে ভালো রাখতে পারবো। সুরক্ষার চাবিকাঠি আমাদের হাতেই। গণপরিবহনগুলোকে প্রজ্ঞাপন মেনে চলতে হবে। বেশি যাত্রী না নেওয়া, গাড়িতে ওঠার সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজ করা ইত্যাদি বিষয়গুলো মানতে হবে। আমারা আর চাই না মৃত্যুর মিছিল। আমরা আর চাই না মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তের আহাজারি। ত্রাণের ওপর আর যাতে নির্ভর না করতে হয় একটি পরিবারেরও। সবাই যেন যার যার কর্মস্থলে ফিরতে পারে এবং অভাব-অনাদরে যাতে দিন যাপন না করতে হয়। এজন্যই ফিরতে হবে আগের রুটিনে যার যার কর্মসংস্থানে। মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

খন্দকার নাঈমা আক্তার নুন 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..