সম্পাদকীয়

স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল রেস্তোরাঁও চালু করুন

লকডাউনের (বিধিনিষেধ) মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। গতকাল জারি করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, বিদ্যমান বিধিনিষেধ ২৩ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। প্রজ্ঞাপনে হোটেল-রেস্তোরাঁর নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁ কেবল খাদ্য বিক্রি/সরবরাহ করতে পারবে।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, এ সময়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা থাকবে। কিন্তু তারা কেবল পার্সেল সেবা দিতে পারবে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যাবে না। গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রথম দফায় আট দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। ওই সময় ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। পরে তিন দফা লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়, নির্দেশনায় আসে সংশোধন। লকডাউনের সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হয় গতকাল রোববার মধ্যরাতে।

সব নাগরিক শতভাগ কার্যকর প্রতিষেধক বা টিকা নেয়া পর্যন্ত কভিড প্রতিরোধের সর্বাপেক্ষা সহজ ও একমাত্র পন্থা হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং যথানিয়মে মাস্ক পরা। অবশ্য করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুরোপুরি কমে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত প্রতিষেধক (টিকা) নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কভিড প্রধান সমস্যা নয়। লকডাউন বছরব্যাপী দীর্ঘায়িত হলেও একশ্রেণির লোকের কোনো অসুবিধা হবে না। কিন্তু তাদের সংখ্যা হাতেগোনা। কভিডে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, সবার আয় কমেছে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে খরচ কমিয়েছে, এমনকি খাবার বাবদ খরচও। সব মানুষের কাছে ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমান বিপদ বা সমস্যা বেশি অনুভূত হয়। যেখানে আয়ই কমেছে, সেখানে সঞ্চয়ের তো প্রশ্নই উঠে না। আর গরিবের সঞ্চয় তো এত বেশি নয় যে, বেশি দিন কাজ না করে ঘরে বসে কাটাতে পারবে। অনেকে সঞ্চয় তো খরচ করেছে, এরই মধ্যে ধার-দেনাও করেছে। না খেয়ে মরার চেয়ে কভিডে মরাও ভালো, গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এমন মন্তব্য করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গত ৮ মে শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদন ছিল রেস্তোরাঁকর্মীদের দুর্ভোগ নিয়ে। তাতে বলা হয়েছে, লকডাউনে ডাইন ইন সেবা বন্ধ থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় দুর্ভোগে রয়েছেন হোটেল-রেস্তোরাঁর শ্রমিকরা। ঈদে বেতন-বোনাস পাননি ৩০ লাখ হোটেল শ্রমিক। পরিবহন, মার্কেটসহ সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার সক্ষমতা আমাদের নেই। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এগুলো চালু করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। অথচ হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। এটি হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য ও অবিচার নয় কী। তারাও কষ্টে আছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-রেস্তোরাঁ খুলে দেয়া উচিত। কভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তবে সীমিত ও নি¤œ আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে নয়। সরকার প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..