প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করুন মফস্বলে

পলাশ হাওলাদার: সম্প্রতি শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘চিকিৎসক ও সরঞ্জাম সংকটে সেবা ব্যাহত’ শিরোনামের প্রতিবেদনে নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালের করুণ অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৫০ শয্যা হতে একশ শয্যায় উন্নীত করার ১৩ বছর পরও প্রয়োজন অনুপাতে চিকিৎসক, কর্মী ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি। খবরটি উদ্বেগজনক। তবে এ চিত্র মোটেই অপরিচিত নয়।

দেশের বেশিরভাগ হাসপাতাল, বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের চিকিৎসাকেন্দ্রেই এ ধরনের সংকট বিদ্যমান। এর অন্যতম কারণ হতে পারে কেন্দ্রীয়করণ। দেশের অধিকাংশ ভালো মানের হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে। সারা দেশ থেকে তাই গুরুতর রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীরা এসব শহরে আসতে পারে। চিকিৎসার মান ও ব্যবস্থাপনা তদারকির ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের কাছে কেবল এসব হাসপাতালই গুরুত্ব পেয়ে থাকে। অথচ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১৬ কোটি মানুষের এ দেশে চিকিৎসক ও হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে প্রতি ২ হাজার ৮৯৪ জনের জন্য চিকিৎসক রয়েছেন একজন এবং সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১ হাজার ৬৯৮ জনের জন্য রয়েছে একটি শয্যা, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত অপ্রতুল। বেসরকারি হাসপাতালের সেবার মান তুলনামূলক ভালো হলেও তা অতিরিক্ত ব্যয়বহুল। তাই দেশের অধিকাংশ মানুষ সরকারি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল। অথচ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে তারা এ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পত্রিকার পাতায় প্রায়ই সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করুণ অবস্থা তুলে ধরা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ২০১৪ সালের একটি গবেষণা প্রতিবেদনেও দেশের স্বাস্থ্য খাতের কিছু ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, জেলা সদর হাসপাতালে সিসিইউ, আইসিইউ, সিটিস্ক্যান যন্ত্র ও লিফট নেই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জেনারেটর চালানোর জন্য জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। এ সমস্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও বেশি। এছাড়া অনেক হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগার ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা হয় না। তবে সব সমস্যা ছাপিয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও বিনামূল্যে প্রাপ্ত ওষুধের অভাবেই সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুগছে। এ সমস্যা নিরসনে সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে দক্ষ সরকারি চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে এবং দরকারি যন্ত্রপাতির সরবরাহ ও তদারকি করতে হবে। স্বচ্ছ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

 

মতিঝিল, ঢাকা