সম্পাদকীয়

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ আমলে নিন

জিডিপির প্রবৃদ্ধি সরাসরি দেশের উন্নয়ন নির্দেশ না করলেও উন্নয়নের অন্যতম নির্দেশক। তবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি মানেই দেশের উন্নয়ন, তা সরাসরি বলা পুরোপুরি ঠিক নয়। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে উন্নয়ন পরিমাপ করা হয় না। এজন্য মানব উন্নয়ন সূচকও বিবেচনায় নিতে হয়। সাধারণভাবে উন্নয়ন বলতে সবার অন্তর্ভুক্তি, বৈষম্য হ্রাস প্রভৃতিকে বোঝায়। তাই জিডিপি বাড়লেই উন্নয়ন হয় না।

প্রবৃদ্ধির সূচক ও জিডিপির আকার বা প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য নয়। দেশের জিডিপির আকার, প্রবৃদ্ধি কত, মানব উন্নয়ন সূচকে কী অবস্থানÑপ্রভৃতি বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা নেই। তারা চারপাশ দেখেই বোঝার চেষ্টা করেন দেশটা উন্নত হচ্ছে কি না। সাদামাটা কথায়, মানুষ নিজের যাপিত জীবন দিয়েই প্রবৃদ্ধি-উন্নয়ন বোঝেন। এটি অবশ্য বিজ্ঞজনরাও স্বীকার করেন যে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই তো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।

সাধারণ মানুষ না বুঝলেও যারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করেন তাদের জন্য জিডিপি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরপর কয়েক বছর জিডিপি বেড়ে যাওয়া মানে দেশটি উন্নয়নের ধারায় আছে। তারা এ থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে পারেন। আমাদের দেশও সাম্প্রতিক উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস প্রভৃতির সূচকে ইতিবাচক ধারায় আছে। এসব সূচকে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় ভূমিকা আছে। কভিককালে আয় কমে যাওয়ায় বিপুল জনগোষ্ঠীর ন্যূনতম পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাবারের সংস্থান করা একপ্রকার দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) সহযোগিতায় সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদদের প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত ‘সামষ্টিক অর্থনীতি: ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা জিডিপির হিসাব নয়, বাজেটে স্থাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনকে গুরুত্ব দেয়া, দেশের বেশিরভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

কভিডের অভিঘাতে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির সূচকগুলো আক্রান্ত। এ থেকে উত্তরণে সবার আগে কভিডকেই মোকাবিলা করতে হবে। সে লক্ষ্যে আগামী বাজেটে কভিডের টিকার সংস্থান করার ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান সময়োপযোগী বলেই মনে করি। সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে কোনোভাবেই প্রবৃদ্ধির স্বাভাবিক গতি ধরে রাখা সম্ভব নয়। কাজ হারানো জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম ও সবল রাখতে অবশ্যই তাদের শারীরিকভাবে সক্ষম রাখতে হবে। কর্মক্ষম হলে আয়বর্ধক কোনো কাজে যুক্ত হতে পারবেন তারা।

কভিডকালে সাধারণ মানুষকে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা গেলে তা একটি বড় অর্জন হিসেবেই বিবেচিত হবে। যে হাত কর্মীর হাতে পরিণত হবে, সে হাত সাহায্য-অনুদান নয়, কাজই চাইবে। তাদের কাজ দিতে হবে, কিংবা আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা করতে হবে। বিশেষজ্ঞ-অংশীজনদের পরামর্শ আমলে নিয়ে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..