মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

বরেণ্য অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষক, লেখক, গবেষক ও রাজনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম আখলাকুর রহমানের আজ ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছিলেন। অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতি তাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করে। আখলাকুর রহমান ১৯২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র তিন বছর বয়সে গ্রামের পাঠশালাতে তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। এরপর হাইস্কুলে পড়ার জন্য প্রথমে বালাগঞ্জ ও পরে হবিগঞ্জে যান। সিলেটের মদনমোহন কলেজ থেকে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি থেকে বিএ সম্পন্ন করেন। ঢাকায় ফিরে অর্থনীতিতে এমএ-তে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এমএ শেষ করে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে অর্থনীতি ও উন্নয়নবিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ড. আখলাকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনও উল্লেখযোগ্য। সিলেটের মদনমোহন কলেজে পড়ার সময় থেকেই রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি হয়। ড. আখলাকুর রহমান পূর্ববঙ্গে সর্বভারতীয় ছাত্র ফেডারেশনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি ভূমিকা রাখেন। দুই পাকিস্তানের অর্থনীতি বা পূর্ব-পশ্চিম বৈষম্য বিষয়ে ষাটের দশকের মাঝামাঝি তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ধনতন্ত্রের বিকাশ’ শীর্ষক গ্রন্থ রচনা করেন। সত্তরের দশকে একচেটিয়া পুঁজিবাদ শিরোনামে সাম্রাজ্যবাদ বিষয়েও তার গ্রন্থ প্রকাশিত হয় এবং Development and growth Economics ও বাংলাদেশ কীভাবে বৈদেশিক ঋণ থেকে বের হতে পারে, তা নিয়ে তিনি গবেষণা গ্রন্থ লেখেন। ১৯৭৫ সালে কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে সিপাহি বিপ্লব সংঘটনকালে তিনি জাসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ কারণে তিনি কারাভোগ করেন। ১৯৯২ সালের ৪ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..