মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন বন্ধু, ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণে মূল ভূমিকা পালনকারী, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জ্যাকব। পুরো নাম জ্যাকব-ফারজ-রাফায়েল। সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আজ তার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৬ সালের আজকের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জেনারেল জ্যাকব ১৯২৩ সালে অবিভক্ত ভারতবর্ষের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪২ সালে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্র হন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং ক্যাম্পে অস্ত্র সরবরাহ করাসহ সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ দেন। মুক্তিযুদ্ধের একপর্যায়ে  জ্যাকব বুঝতে পারেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো ফল লাভ সম্ভব হবে না। তখন ভারতীয় পরিকল্পনা বদলে ঢাকাকে দ্রুত মুক্ত করে বাংলাদেশ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় ঢাকায় ৩০ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য অবস্থান করছিল এবং মার্কিন সপ্তম নৌবহর যে কোনো মুহূর্তে সৈন্য নামানোর অপেক্ষায় ছিল। এমনি একসময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাকব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পাকিস্তানকে ভুলিয়ে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা নেন। দিল্লির সঙ্গে পরামর্শ না করেই তিনি নিজে আত্মসমর্পণের দলিলের একটা খসড়া তৈরি করে নিয়াজির কাছে পাঠিয়ে দেন। তিনি নিয়াজীকে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি মানা যাবে না, উম্মুক্ত আত্মসমর্পণ দলিল আধা ঘণ্টার মধ্যে মেনে নিতে হবে, নইলে ঢাকায় এক্ষুনি বোম্বিং শুরু হবে। এতে তারা সবাই মারা পড়বে। নিয়াজি হতভম্ব হয়ে আত্মসমর্পণে রাজি হয়ে যান। জেনারেল জ্যাকব নিয়াজীকে বুঝতেই দেননি, সে সময় ঢাকায় মাত্র হাজার তিনেক সৈন্য ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জেনারেল জ্যাকব ২০১২ সালের ২৭ মার্চ বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি দুটি বই লিখেছেন সারেন্ডার ইন ঢাকা, ‘বার্থ অব এ নেশন এবং অ্যান ওডিসি ইন ওয়ার অ্যান্ড পিস’।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..