মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

বিপ্লবী, রাজনীতিবিদ ও লেখক পূর্ণেন্দু দস্তিদারের আজ ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯০৯ সালের ২০ জুন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৭ সালে যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার আগে তিনি সূর্যসেনের সহযোগী হিসেবে ছাত্র বিপ্লবে অংশ নেন। মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহে যোগদান করেন বিপ্লবী পূর্ণেন্দু দস্তিদার। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন  এবং ধরা পড়ে দীর্ঘদিন কারাগারে আটক থাকেন। জেলে বন্দি অবস্থায় তিনি ১৯৩৪ সালে ডিস্টিংশনসহ বি.এ. ও বি.এল. ডিগ্রি লাভ করেন। জেল থেকে মুক্ত হয়ে কিছুদিন আইন পেশায় নিয়োজিত হন ও  ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। দেশভাগ হওয়ার পর তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে অংশ নেন ও পূর্ববঙ্গ বিধানসভার সদস্য হন। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি হলে তিনি আবার আটক হন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালে পূর্ববঙ্গ আইন সভায় তিনি চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের  স্মারকস্তম্ভ নির্মাণের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং ১৯৫৬ সালে তা ব্যবস্থাপক সভায় তা গৃহীত হয়। পূর্ণেন্দু দস্তিদার পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির পর তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন ও ১৯৬২ সালে মুক্তি লাভ করেন। একই বছরে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির চট্টগ্রাম শহর কমিটির সভাপতি হন। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি মুক্তি লাভ করেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে অংশগ্রহণ করেন। পূর্ণেন্দু দস্তিদার বেশ কিছু সাহিত্যকর্ম রচনা করেন তার মধ্যেÑকবিয়াল রমেশ শীল, স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম, বীরকন্যা প্রীতিলতা। অনুবাদ করেন শেকভের গল্প, মোপাশাঁর গল্প। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার  উদ্দেশে ভারত  যাওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..