মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব ত্রিপুরা সেনগুপ্তের আজ ১০৮তম জন্মবার্ষিকী। ত্রিপুরা সেনগুপ্ত ১৯১৩ সালের এই দিনে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়াশোনা করেন মিউনিসিপ্যাল স্কুলে।

১৯২৯ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে আয়োজিত হয় কংগ্রেস সম্মেলন। এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন, অনন্ত সিংহ, গণেশ ঘোষের সঙ্গে কিশোর ত্রিপুরা সেনগুপ্ত। সম্মেলনে কংগ্রেসের অহিংস নীতি সমর্থন না করার কথা এবং তারা সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রস্তুতির কথা জানান সুভাষ বসুকে। নেতাজী এতে নৈতিক সমর্থন জানান।

মাস্টারদা সূর্য সেন সশস্ত্র বিদ্রোহের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম শহরের অস্ত্রাগার দুটো লুট করার পরিকল্পনা করেন। ১৯৩০ সালে ১৮ এপ্রিল সেই কার্যক্রমে ত্রিপুরা সেনগুপ্ত অংশগ্রহণ করেন। প্রস্তুতি পর্বে টেলিগ্রাফ, টেলিফোন অফিসের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন বিপ্লবী ত্রিপুরা দাশগুপ্ত। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি একজন সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সফল বিপ্লবের পর বিপ্লবী দলটি পুলিশ অস্ত্রাগারে সমবেত হন এবং সেখানে মাস্টারদা সূর্য সেনকে মিলিটারি স্যালুট প্রদান করা হয়। সূর্য সেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার ঘোষণা করেন। রাত ভোর হওয়ার আগেই বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম শহর ত্যাগ করেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পার্বত্য চট্টপ্রামের দিকে যাত্রা করেন।

 এর ৪ দিন পর ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম সেনানিবাস সংলগ্ন জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নেয়া বিপ্লবীদের কয়েক হাজার সৈন্য ঘিরে ফেলে। জালালাবাদ পাহাড়ে তিন ঘণ্টার প্রচণ্ড যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রায় ১০০ জন এবং বিপ্লবী বাহিনীর ১২ জন শহিদ হন। সেদিন শহীদদের তালিকায় সেনাপতির দায়িত্ব পালনরত ১৭ বছর বয়সী ত্রিপুরা সেনগুপ্তও ছিলেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..