মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

উপমহাদেশের খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী, নৃত্যগুরু ও লেখক বুলবুল চৌধুরীর আজ ৬৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। নৃত্যশিল্পকে জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, বিশেষ করে রক্ষণশীল সমাজে নৃত্যকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে বুলবুল চৌধুরী ছিলেন এক অনন্য পথিকৃৎ।

বুলবুল চৌধুরী ১৯১৯ সালের ১ জানুয়ারি বগুড়ায় জš§গ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চুনতি গ্রামে। তার  পুরো নাম রশীদ আহমদ চৌধুরী আর ডাকনাম টুনু। পাঁচ বছর বয়সে আরবি-ফারসি শেখার মধ্য দিয়ে তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯২৪ সালে ভর্তি হন হাওড়া প্রাইমারি স্কুলে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের পর ১৯৪৩ সালে তিনি  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। শৈশব থেকেই নাচ, গান, ছবি আঁকা ও গল্প-কবিতা লেখার প্রতি বুলবুলের প্রবল আগ্রহ ছিল। মানিকগঞ্জ হাইস্কুলের এক বিচিত্রানুষ্ঠানে স্বরচিত ‘চাতক-নৃত্য’ পরিবেশনের মাধ্যমে তার নৃত্যশিল্পী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ছাত্র থাকাকালে প্রেসিডেন্সি কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নৃত্যশিল্পী হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ১৯৩৭ সালে ওরিয়েন্টাল ফাইন আর্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

১৯৩৪ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি প্রায় ৭০টি নৃত্যনাট্য রচনা ও পরিবেশন করেন। ভারত ও তদানীন্তন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান ছাড়াও নাচের দল নিয়ে তিনি ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেন। এসব নৃত্যনাট্যের মূলকথা লোককাহিনি, পুরাণকাহিনি, সামাজিক সমস্যা, সমকালীন ঘটনা, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ প্রভৃতি। তার নৃত্যের ধরন ছিল অনন্য, ব্যতিক্রমী ও অভিব্যক্তিনির্ভর। নৃত্যচর্চার বাইরে তিনি ‘অজয় কুমার’ ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে  প্রাচী (১৯৪২) নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন তিনি। এছাড়া কয়েকটি ছোটগল্পও লিখেছেন। তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রাইড অব পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৫৪ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নৃত্যশিল্পে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫৫ সালের ১৭ মে ঢাকায় তার নামে প্রতিষ্ঠিত হয় বুলবুল ললিতকলা একাডেমি।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..